দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইরান হরমুজ প্রণালিকে যুদ্ধকালীন সবচেয়ে বড় কৌশলগত অর্জন হিসেবে দেখছে এবং যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি থাকলেও সেই অবস্থান ধরে রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
তাদের মতে, তেহরানের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইরানের নতুন প্রভাব স্বীকার না করেই প্রণালিটিকে যুদ্ধপূর্ব সময়ের নৌচলাচল ব্যবস্থায় ফিরিয়ে নিতে চায়।
ইরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে কেবল তাদের নির্ধারিত পথ অনুসরণ করতে হবে। ইরানের নির্দেশনা না মানা জাহাজে গুলি চালানোর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা হামলা চালানোর পরই নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার কেন্দ্রে রয়েছে সমঝোতা স্মারকের পঞ্চম ধারার ভিন্ন ব্যাখ্যা। ওই ধারায় বলা হয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা করবে ইরান এবং প্রণালির ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক কাঠামো নির্ধারণে ওমানের সঙ্গে আলোচনা করবে। তবে সেখানে হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচলের ওপর ইরানের একচ্ছত্র কর্তৃত্বের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই।
‘ইরান পডকাস্ট’-এর সঞ্চালক নেগার মোর্তাজাভি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘তেহরানের বার্তা স্পষ্ট—হরমুজ প্রণালি খোলা আছে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের শর্তে নয়। ট্রাম্প কাগজে একটি চুক্তি করেছেন, কিন্তু এখন সমুদ্রে তার ব্যাখ্যা সম্প্রসারণের চেষ্টা করছেন। ইরান সমঝোতা স্মারকের ভাষার দিকেই বিরোধ ফিরিয়ে নিচ্ছে এবং দেখাতে চাইছে, সামরিক শক্তি দিয়ে আলোচনায় হওয়া সমঝোতা বদলে দেওয়া যায় না।’
সংকট বিশ্লেষকদের মতে, সমঝোতা স্মারকের অস্পষ্ট ভাষা শুরুতে সংঘাত থামাতে সহায়ক হলেও পরে সেটিই সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। কারণ, উভয় পক্ষই নিজেদের স্বার্থ অনুযায়ী ওই ধারার ব্যাখ্যা দিতে শুরু করেছে।
যুদ্ধবিরতির বাকি প্রক্রিয়া ভেঙে পড়া ঠেকাতে উভয় পক্ষকে পঞ্চম ধারার নিজস্ব ব্যাখ্যা একে অপরের ওপর চাপিয়ে দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে বলে মত দিয়েছে একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান। তাদের মতে, অন্তত আলোচনা চলাকালীন পরিস্থিতি শান্ত রাখতে ইরানকে জাহাজ লক্ষ্য করে গুলি চালানো বন্ধ করতে হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে বিকল্প নৌপথ চালুর উদ্যোগ থেকে আপাতত সরে আসতে হবে।
মধ্যস্থতাকারীরা দুই পক্ষকে আবার আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এখন পর্যন্ত কোনো সমঝোতার ইঙ্গিত না মিললেও অন্তত আজকের জন্য গোলাগুলি থেমে আছে।
সূত্র: সিএনএন
/অ