দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খামেনির জানাজায় অংশ নিয়েছিলেন এক কোটিরও বেশি মানুষ- যা ছিল সে সময় ইরানের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-ষষ্ঠাংশ এবং বিশ্বের সবচেয়ে বড় জানাজার স্বীকৃতি পেয়েছিল। তিন দশকেরও বেশি সময় পর সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়তে পারে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ বিদায়। এবার তাঁর জানাজায় প্রায় দুই কোটি মানুষের অংশগ্রহণের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
ইরানের ইসলামি বিপ্লব ও আধুনিক ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খামেনি। দীর্ঘ ১৫ বছর নির্বাসনে থাকার পর দেশে ফিরে পাহলভি রাজতন্ত্রের পতন ঘটিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন ইসলামি প্রজাতন্ত্র। ১৯৮৯ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দীর্ঘ ১০ বছর ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খামেনির জানাজা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছে। ১৯৮৯ সালের ৬ জুন ওই জানাজায় অংশ নেয় ১ কোটির বেশি মানুষ, যা ইরানের তখনকার জনসংখ্যার ৬ ভাগের এক ভাগ। বিপুল জনসমাগমের জানাজাটি জনসংখ্যার অনুপাতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জানাজা হিসেবে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে জায়গা করে নেয়।
রুহুল্লাহ খোমেনির জানাজা ঘিরে তেহরানের পথে তৈরি হয়েছিল ৩২ কিলোমিটার দীর্ঘ শোকাহত মানুষের সারি। এ সময় আটকে যায় জানাজার যাত্রার পথ। প্রচণ্ড ভিড়ে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। দেখা দেয় বিশৃঙ্খলা। হুড়োহুড়ি ও পদদলিত হয়ে মারা যান অন্তত ৮ জন এবং আহত হোন কয়েক হাজার। নিরাপত্তা বাহিনী ফাঁকা গুলি ছুড়লেও, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। শেষ পর্যন্ত দাফন স্থগিত করা হয়। পরদিন তার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়। তার আগে প্রায় ২০ লাখ মানুষ সারারাত খামেনির মরদেহের পাশে অবস্থান করেছিলেন।
আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ১৯৮৯ সালে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। দীর্ঘ ৩৬ বছর দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতৃত্বে ছিলেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় নিহত হন আলী খামেনি। তার জানাজা ও দাফন ঘিরে সপ্তাহব্যাপী আয়োজন করেছে দেশটি। প্রায় ২ কোটি মানুষের অংশগ্রহণে নতুন ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে ইরান।
দেশজুড়ে জারি করা হয়েছে সর্বোচ্চ সতর্কতা। বিশৃঙ্খলা এড়াতে নেয়া হয়েছে মহাপরিকল্পনা। তেহরানে আড়াই হাজার অ্যাম্বুলেন্স, ২১টি হেলিকপ্টার, শতাধিক ড্রোন এবং হাজারো উদ্ধারকর্মী মোতায়েন রাখা হয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে ২০ হাজার কক্ষ, কয়েক ডজন হাসপাতাল এবং পাঁচ লাখ লিটার স্যালাইন। ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচলে আরোপ করা হয়েছে কড়াকড়ি। শহরজুড়ে ৭০০ বেশি পার্কিং এলাকা খালি রাখা হয়েছে।
ইরানের ইসলামী বিপ্লবের প্রতিষ্ঠাতা নেতা আয়াতুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুবার্ষিকীতে আজও তার সমাধিসৌধে হাজির হন লাখো ইরানি। বিশেষজ্ঞদের মতে, আলী খামেনিও প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম পর্যন্ত ইরানিদের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবেন।
কেএম