দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইরান যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ তৎপরতা আরও বাড়ালে ইউরোপে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলার সম্ভাব্য পরিকল্পনার খবরের মধ্যে যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছে উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট ন্যাটো।
বুধবার এক লিখিত বিবৃতিতে ন্যাটোর এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ন্যাটো যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় প্রস্তুত এবং মিত্র সব দেশকে রক্ষায় প্রয়োজনীয় সবকিছুই করবে।’
বিবৃতিতে চলতি বছরের শুরুর দিকে ইরান থেকে তুরস্কের দিকে ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র চার দফায় সফলভাবে ভূপাতিত করার কথাও উল্লেখ করা হয়।
ন্যাটোর কর্মকর্তা বলেন, ‘চলতি বছরের শুরুতে চারটি পৃথক ঘটনায় ইরান থেকে তুরস্কের দিকে ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ন্যাটোর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে প্রতিহত করেছে। এতে প্রমাণ হয়েছে, আমাদের প্রতিরোধ ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী ও কার্যকর।’
বুধবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ আরও বাড়ালে দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের কয়েকটি দেশে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনায় সম্ভাব্য হামলার বিষয়টি পর্যালোচনা করেছে ইরানি বাহিনী।
সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে বুলগেরিয়ার নামও এসেছে। গত মাসে দেশটি বেজমের বিমানঘাঁটি যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সরবরাহকারী উড়োজাহাজ ব্যবহারের অনুমতি দেয়।
এ ছাড়া সাইপ্রাসের নামও সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গত মার্চে সেখানে একটি ব্রিটিশ বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করলে এসব স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা এখনো অচলাবস্থায় রয়েছে। তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরুর সম্ভাবনাও ক্ষীণ হয়ে এসেছে।
মঙ্গলবার ট্রাম্প বলেন, তেহরানের সঙ্গে বর্তমানে ‘কোনো আলোচনা বা কথোপকথন চলছে না, এমনকি কোনো আলোচনা নির্ধারিতও নেই’।
ইরানের সামরিক কর্মকর্তারা এর আগে সতর্ক করে বলেছিলেন, ইরানের ভূখণ্ডে হামলা চালাতে ব্যবহৃত যেকোনো সামরিক ঘাঁটিকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে।
গত জুনে যুদ্ধ বন্ধ এবং বৃহত্তর একটি চুক্তির পথ তৈরির লক্ষ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেছিল। তবে চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের পারস্পরিক অভিযোগ ও নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ায় পরে সেই সমঝোতা ভেঙে যায়।
এর পর থেকে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া কিংবা বৃহত্তর চুক্তি নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরুর কোনো অগ্রগতি হয়নি।
/অ