দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করলে তেহরানও ব্যবহৃত অস্ত্রের ধরন অনুযায়ী জবাব দেবে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের একজন আইনপ্রণেতা। স্থানীয় গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে ইরানি পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিশনের সদস্য ফাদা হোসেইন মালেকি এ কথা বলেন।
বুধবার ইরানি সংবাদমাধ্যম খবর অনলাইনের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে পারমাণবিক হামলার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মালেকি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘অবিবেচনাপ্রসূত কোনো পদক্ষেপের’ সম্ভাবনা তিনি উড়িয়ে দিচ্ছেন না। তবে এমন পদক্ষেপ নেওয়ার সাহস ট্রাম্প দেখাবেন বলে তিনি মনে করেন না।
মালেকি বলেন, ‘এ ধরনের পদক্ষেপ বিশ্বকে একটি বিপজ্জনক যুদ্ধে ঠেলে দিতে পারে।’
যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করে, তাহলে ইরানও পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করবে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যা ব্যবহার করবে, ইরানও তার জবাব দেবে।’
তবে মালেকি স্পষ্ট করে বলেননি যে ইরানের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে।
তিনি ওয়াশিংটনকে আরও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করে বলেন, ইরানের হাতে ‘একাধিক বিকল্প’ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো পদক্ষেপের জবাব একই মাত্রায় অথবা তার চেয়েও বেশি হতে পারে।
মালেকি বলেন, ইরানের অনেক অস্ত্র ও সামরিক সক্ষমতা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তার ভাষ্য, ইরান প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান থেকে ‘সক্রিয় ও আক্রমণাত্মক প্রতিরোধের’ অবস্থানে গেছে।
তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে স্থগিত আলোচনার প্রসঙ্গে মালেকি অভিযোগ করেন, দুই পক্ষের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের অধীনে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেননি ট্রাম্প।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আগের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করলে ইরান আলোচনায় ফিরবে না। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিসহ বিভিন্ন বিষয়ও অমীমাংসিত থেকে যাবে।
মালেকি বলেন, ওমানের সঙ্গে ইরানের আলোচনা একটি পৃথক দ্বিপক্ষীয় প্রক্রিয়া। ওই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণের প্রস্তাব তেহরান প্রত্যাখ্যান করেছে।
গত জুনের মাঝামাঝি পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি সমঝোতা স্মারকে সই করে। দুই দেশের যুদ্ধের অবসান এবং চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে আলোচনার পথ তৈরির লক্ষ্যেই এ সমঝোতা হয়েছিল।
তবে সমঝোতা বাস্তবায়ন নিয়ে মতবিরোধের কারণে আলোচনা পরে স্থগিত হয়ে যায়। মতবিরোধের বিষয়গুলোর মধ্যে হরমুজ প্রণালিও রয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালানোর পর থেকে কয়েক মাস ধরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘাত চলছে। ওই হামলার জবাবে ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তু এবং অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদের ওপর পাল্টা হামলা চালায়।
/অ