দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে চলমান নিরাপত্তা আলোচনা নতুন গতি পেয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরাইলি আর্মি রেডিও। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনে সর্বশেষ আট ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক ছিল ‘অত্যন্ত গঠনমূলক’ এবং দক্ষিণ লেবাননের কিছু এলাকা থেকে ইসরাইলি বাহিনীর আংশিক প্রত্যাহার নিয়ে আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে।
লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের লক্ষ্যে মার্কিন মধ্যস্থতায় মঙ্গলবার (২৪ জুন) পঞ্চম দফার আলোচনা শুরু হয়েছে। এতে ইসরাইল ও লেবাননের রাষ্ট্রদূতদের পাশাপাশি ইসরাইলি সেনাবাহিনীর তিনজন শীর্ষ কর্মকর্তা অংশ নিচ্ছেন।
তবে আলোচনা নিয়ে ভিন্ন সুরও শোনা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লেইটার এ প্রক্রিয়াকে ‘রেল দুর্ঘটনার’ সঙ্গে তুলনা করে বলেছেন, আলোচনা সম্পূর্ণ ব্যর্থতার দিকে এগোচ্ছে।
এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র নতুন একটি প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরাইলি আর্মি রেডিও। প্রস্তাব অনুযায়ী, পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকটি এলাকা নির্ধারণ করে সেখান থেকে ধাপে ধাপে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার করা হবে। এরপর ওই এলাকাগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেবে লেবাননের সেনাবাহিনী এবং সেখানে হিজবুল্লাহর কোনো উপস্থিতি না থাকে, তা নিশ্চিত করবে।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর দক্ষিণ লেবাননে সামরিক অভিযান আরও বিস্তৃত করে ইসরাইল। বিশেষ করে নাবাতিয়েহ অঞ্চলের কাছে লিতানি নদীর উত্তরের কিছু এলাকায় তারা অগ্রসর হয়, যা আগে তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার বাইরে ছিল।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ভবিষ্যৎ আলোচনায় সম্ভাব্য বিনিময়যোগ্য অঞ্চল তৈরির লক্ষ্যেই এসব এলাকায় সেনা মোতায়েন করা হয়েছিল। বর্তমানে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এলাকাগুলোই আলোচনার মূল বিষয় হয়ে উঠেছে।
যদিও এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি, তবুও কূটনৈতিক সূত্রগুলো মনে করছে, উভয় পক্ষের মধ্যে একটি সম্ভাব্য সমাধানের পথ তৈরি হচ্ছে।
এদিকে ইসরাইলের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম কান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য দাবির প্রেক্ষিতে দক্ষিণ লেবাননের কিছু এলাকা থেকে ধাপে ধাপে সেনা প্রত্যাহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে নেতানিয়াহু সরকার।
ইসরাইলি সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ইসরাইলি সেনাবাহিনীকে তথাকথিত ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’-এর কিছু অংশ থেকে সরে যেতে বলা হতে পারে। সেসব এলাকায় পরে মোতায়েন হবে লেবাননের সেনাবাহিনী।
এ ছাড়া লেবাননে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনা পর্যবেক্ষণে নতুন একটি ব্যবস্থাও অনুমোদন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে ইরান ও কাতার অংশ নেবে, তবে ইসরাইল থাকবে না।
ইসরাইলি সূত্রগুলোর দাবি, ইরানের অংশগ্রহণের কারণেই এই ব্যবস্থায় ইসরাইলকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
এর আগে ইসরাইলের চ্যানেল ১৩ এক জ্যেষ্ঠ ইসরাইলি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছিল, ওয়াশিংটন সম্প্রতি ইসরাইলকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে—লেবাননে আগের মতো বাধাহীন সামরিক অভিযান চালানোর স্বাধীনতা এখন আর থাকবে না।
এমএস/