দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক সমঝোতা স্মারককে ঘিরে দেশটির অভ্যন্তরে যখন নানা বিতর্ক চলছে, তখন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এ বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ইরানের অধিকার ও ‘রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’-এর স্বার্থ রক্ষার নিশ্চয়তা পাওয়ার পরই তিনি চুক্তিটিতে অনুমোদন দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন, ওয়াশিংটন যদি অতিরিক্ত দাবি তোলে, তবে তেহরান কোনোভাবেই তা মেনে নেবে না।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বৃহস্পতিবার বলেছেন, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ইরানের অধিকার ও ‘রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’-এর স্বার্থ সুরক্ষার আশ্বাস পাওয়ার পর, ব্যক্তিগতভাবে ভিন্নমত থাকা সত্ত্বেও তিনি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে অনুমোদন দিয়েছেন।
ইরানি জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক লিখিত বার্তায় খামেনি জানান, সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান হিসেবে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান চুক্তিটি যেন ইরানের স্বার্থ রক্ষা করে, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব নিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো অতিরিক্ত দাবি উত্থাপন করে, তবে ইরান তার কাছে নতি স্বীকার করবে না।
চুক্তি স্বাক্ষরের পর দেওয়া বার্তায় খামেনি বলেন, ইরানি কর্মকর্তারা সহানুভূতি ও সদিচ্ছা থেকে এই সমঝোতা বাস্তবায়নে ব্যাপক প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। বিপরীতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প হতাশা থেকে কাজ করেছেন এবং চুক্তি সম্পাদনে নিজের সর্বোচ্চ প্রভাব ব্যবহার করেছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, মার্কিন পক্ষের অতিরিক্ত কোনো দাবি ইরান গ্রহণ করবে না। বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্য মূলত চুক্তিবিরোধী কট্টরপন্থিদের সমালোচনার জবাব হিসেবেই দেওয়া হয়েছে।
খামেনি বলেন, এখন ইরান জাতি এবং তিনি নিজে চুক্তিতে উল্লেখিত শর্তগুলো বাস্তবায়নের অপেক্ষায় থাকবেন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, ভবিষ্যতে কোনো মুখোমুখি আলোচনা যেন শত্রুপক্ষের অবস্থান মেনে নেওয়ার সমতুল্য না হয়।
সর্বোচ্চ নেতা বলেন, ‘এই মুহূর্ত থেকে আমরা-আপনারা, এই গর্বিত জাতি এবং এই নগণ্য সেবক-উল্লিখিত শর্তগুলো বাস্তবায়নের অপেক্ষায় থাকব।’
উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলার পর কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসান ঘটাতে বিভিন্ন পক্ষ মধ্যস্থতার চেষ্টা চালায়। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারকের ঘোষণা দেন। সূত্র: রয়টার্স
কেএম