দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সান ডিয়েগো শহরে একটি ইসলামিক কেন্দ্র ও ইসলামিক স্কুলে বন্দুক হামলায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি ঘৃণাজনিত অপরাধ হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। হামলার পর দুই বন্দুকধারীকেও মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (১৮ মে) শহরের 'ইসলামিক সেন্টার অব সান দিয়াগোতে' (আইসিএসডি) এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে।
সান দিয়াগো পুলিশ প্রধান স্কট ওয়াহল সাংবাদিকদের জানান, নিহতদের মধ্যে একজন মসজিদের নিরাপত্তাকর্মী ছিলেন। পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়া ঠেকাতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে সন্দেহভাজন দুই হামলাকারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তারা নিজেদের গুলিতে আত্মহত্যা করেছে।
পুলিশ প্রধান আরও জানান, নিহত দুই হামলাকারীর বয়স আনুমানিক ১৭ ও ১৯ বছর। তবে ঠিক কী কারণে তারা এই হামলা চালিয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনাটির প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে। এদিকে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই-এর পরিচালক কাশ প্যাটেল জানিয়েছেন, স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে এফবিআই এই হামলার তদন্তে কাজ শুরু করেছে।
নৃশংস এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন মসজিদের ইমাম তাহা হাসান। তিনি বলেন, ‘আইসিএসডি এমন একটি পবিত্র স্থান যেখানে মুসলিম-অমুসলিম সবাই একত্রিত হয়ে প্রার্থনা, শিক্ষা ও সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নেয়। এমন উপাসনালয়কে লক্ষ্যবস্তু বানানো অত্যন্ত নিন্দনীয়।’
ঘটনার পর সান দিয়াগো শহরের মেয়র টড গ্লোরিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সমর্থন জানিয়ে বলেন, ‘এই শহরে কোনো ধরনের বর্ণবাদ ও বিদ্বেষের স্থান নেই। আমি মুসলিম সম্প্রদায়কে আশ্বস্ত করতে চাই, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয়গুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোনো ধরনের ঘাটতি রাখা হবে না।’
এছাড়া ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসমের কার্যালয় জানিয়েছে, তারা সার্বিক পরিস্থিতির ওপর গভীর নজর রাখছেন।
এদিকে এই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘটনাটিকে 'ভয়াবহ' বলে বর্ণনা করেছেন।
এই ঘটনার পর ক্যালিফোর্নিয়ার পাশাপাশি নিউইয়র্ক শহরজুড়ে মসজিদ ও ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করেছে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (এনওয়াইপিডি)।
কেএম