দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইরানের বিস্তৃত রাজধানী তেহরানে রাত নামার সঙ্গে সঙ্গে আলবোর্জ পর্বতমালার বরফঢাকা চূড়াগুলো অন্ধকারে মিলিয়ে যায়। এ সময় হাজারো মানুষ নিয়মিতভাবে রাষ্ট্র-সমর্থিত সমাবেশে অংশ নিচ্ছেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী মনোভাব জোরদার করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
তেহরানের অভিজাত এলাকা তাজরিশ স্কয়ারের কাছে এসব সমাবেশে ‘আমেরিকার মৃত্যু হোক’ স্লোগান শোনা যায়। ইরানি পতাকা হাতে মানুষের ভিড়ের মধ্যে রাষ্ট্রীয় প্রচারণা জোরদার করা হয়। একই সঙ্গে দেশপ্রেমমূলক সামগ্রী বিক্রিও চলছে, যেখানে পতাকা ও ব্যাজসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করছেন দোকানিরা।
সমাবেশে অংশ নেওয়া এক তরুণী সাংবাদিকদের বলেন, তিনি নিজের দেশ ও জনগণের জন্য জীবন উৎসর্গ করতেও প্রস্তুত। আরেকজন অংশগ্রহণকারী দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির পরও ইরানের সামরিক বাহিনী ও নেতৃত্ব যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত।
অন্যদিকে কিছু অংশগ্রহণকারী মনে করছেন, চলমান উত্তেজনা দ্রুত সংঘাতে রূপ নিতে পারে এবং কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে আসছে।
গত কয়েক মাস ধরে দেশজুড়ে সন্ধ্যাকালীন সমাবেশ চলছে, যা যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই আরও বিস্তৃত হয়েছে বলে জানানো হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে তেহরানের বিভিন্ন স্থানে সাধারণ নাগরিকদের অস্ত্র ব্যবহারের প্রাথমিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার ঘটনাও দেখা গেছে। কিছু জায়গায় নিরাপত্তা বাহিনীর তত্ত্বাবধানে স্বল্প পরিসরে অস্ত্র চালনার প্রদর্শনও করা হয়।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনেও অস্ত্র হাতে উপস্থাপকদের উপস্থিতি বাড়ছে, যা সরকারের কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এসব প্রচারণার বিপরীতে শহরের অন্য অংশে অনেক মানুষ শান্তি ও স্বাভাবিক জীবনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করছেন।
একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক বলেন, তারা একটি স্বাভাবিক দেশে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ পরিবেশ চান। একই সঙ্গে কিছু সাধারণ নাগরিক যুদ্ধ নয়, শান্তি চান বলে জানিয়েছেন।
সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার মধ্যে তেহরানে একদিকে কঠোর অবস্থান ও যুদ্ধ প্রস্তুতির বার্তা জোরালো হচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও শান্তির আকাঙ্ক্ষাও স্পষ্টভাবে বিদ্যমান।
সূত্র: সিএনএন
এমএস/