দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (ডিআর কঙ্গো)তে ইবোলা প্রাদুর্ভাবে অন্তত ১০০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৩৯০টির বেশি সন্দেহভাজন সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে আফ্রিকা সেন্টার্স ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (Africa CDC)। বিষয়টি বিবিসিকে জানিয়েছেন সংস্থাটির প্রধান।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এই প্রাদুর্ভাবকে আন্তর্জাতিক জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতি হিসেবে ঘোষণা করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই প্রাদুর্ভাবে অন্তত ছয়জন মার্কিন নাগরিক ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সংস্পর্শে এসেছেন বলে জানিয়েছে সিবিএস নিউজ। এর মধ্যে একজনের উপসর্গ দেখা দিয়েছে, তিনজনকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ সংস্পর্শে এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে তারা কেউ সংক্রমিত হয়েছেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (CDC) জানিয়েছে, আক্রান্ত কিছু মার্কিন নাগরিককে নিরাপদভাবে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে তারা সহায়তা করছে, তবে কতজন এতে অন্তর্ভুক্ত তা নিশ্চিত করা হয়নি।
চলমান প্রাদুর্ভাবে ইবোলার যে স্ট্রেইন পাওয়া গেছে, তা বুন্ডিবুগিও ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট, যার জন্য এখনো কোনো অনুমোদিত ওষুধ বা ভ্যাকসিন নেই।
CDC-এর তথ্য অনুযায়ী, উগান্ডাতেও দুটি নিশ্চিত সংক্রমণ এবং একটি মৃত্যু ঘটেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সরকার ডিআর কঙ্গোতে অবস্থানরত কিছু নাগরিককে নিরাপদ কোয়ারেন্টিন স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করছে। সম্ভাব্যভাবে তাদের জার্মানিতে একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে নেওয়া হতে পারে, যদিও এটি এখনো নিশ্চিত হয়নি।
CDC জানিয়েছে, মার্কিন নাগরিকদের পরিস্থিতি নিয়ে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর না দিলেও যুক্তরাষ্ট্রে ঝুঁকি এখনো কম।
যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ডিআর কঙ্গোতে ভ্রমণ না করার জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা (লেভেল-৪) জারি করেছে। WHO বলেছে, এটি বড় ধরনের মহামারিতে রূপ নেওয়ার ঝুঁকি রাখে, তবে এখনো বৈশ্বিক মহামারির (pandemic) মানদণ্ডে পৌঁছেনি।
সংস্থাটি সতর্ক করে জানিয়েছে, পরিস্থিতি আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে এবং আঞ্চলিকভাবে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে পশ্চিম আফ্রিকায় ইবোলার সবচেয়ে বড় প্রাদুর্ভাবে ১১ হাজারের বেশি মানুষ মারা যায়। সেই সময় রোগটি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইতালিসহ বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে।
আফ্রিকা CDC-এর মহাপরিচালক জিন কাসেয়া বলেছেন, যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি না মানলে এবং বিশেষ করে শেষকৃত্যের সময় সতর্কতা অবলম্বন না করলে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।
WHO ডিআর কঙ্গো ও উগান্ডাকে সীমান্তে স্ক্রিনিং জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোকে নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।
রুয়ান্ডা ও নাইজেরিয়াসহ কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে সীমান্তে সতর্কতা ও নজরদারি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/