দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইরান যুদ্ধ চলাকালে সৌদি আরবে ৮ হাজার সেনা, একটি যুদ্ধবিমান স্কোয়াড্রন এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে পাকিস্তান। পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় এই মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে একাধিক নিরাপত্তা ও সরকারি সূত্র।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের নিরাপত্তা জোরদার এবং সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় পাকিস্তান এই যুদ্ধ সক্ষম বাহিনী মোতায়েন করেছে। তবে এ বিষয়ে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিংবা সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সূত্রগুলো জানায়, গত বছরের গোপন প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুযায়ী দুই দেশ একে অপরের ওপর হামলা হলে সহায়তায় এগিয়ে আসতে বাধ্য। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এর আগে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, এই চুক্তির মাধ্যমে সৌদি আরব পাকিস্তানের ‘পারমাণবিক সুরক্ষা ছাতার’ আওতায় রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এপ্রিলের শুরুতে পাকিস্তান প্রায় ১৬টি যুদ্ধবিমান নিয়ে গঠিত একটি পূর্ণ স্কোয়াড্রন সৌদি আরবে পাঠিয়েছে। এর বেশিরভাগই ছিল চীনের সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান। এছাড়া দুটি ড্রোন স্কোয়াড্রন এবং চীনা এইচকিউ-৯ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও মোতায়েন করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে প্রায় ৮ হাজার সেনা সৌদিতে অবস্থান করছে। প্রয়োজনে আরও সেনা পাঠানোর প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে ইসলামাবাদ। মোতায়েন করা এসব সামরিক সরঞ্জাম পাকিস্তানি সেনারাই পরিচালনা করছে এবং এর অর্থায়ন করছে সৌদি আরব।
নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরান সংঘাত চলাকালে পাঠানো সেনা ও বিমান বাহিনীর সদস্যরা মূলত প্রশিক্ষণ ও পরামর্শমূলক দায়িত্ব পালন করবেন। তবে এর আগেও বিভিন্ন চুক্তির আওতায় সৌদি আরবে পাকিস্তানের হাজার হাজার সেনা যুদ্ধ প্রস্তুত অবস্থায় মোতায়েন ছিল।
এক সরকারি সূত্র জানায়, গোপন প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সর্বোচ্চ ৮০ হাজার পাকিস্তানি সেনা সৌদি আরবে মোতায়েনের সুযোগ রাখা হয়েছে। সৌদি সীমান্ত নিরাপত্তায় দেশটির বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ও এতে উল্লেখ রয়েছে।
দুই নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানান, চুক্তির আওতায় পাকিস্তানি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের বিষয়ও রয়েছে। যদিও এ ধরনের কোনো জাহাজ ইতোমধ্যে সৌদিতে পৌঁছেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইরানের হামলায় সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর এবং এক সৌদি নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরপরই পাকিস্তান যুদ্ধবিমান পাঠায়।
পরে ইসলামাবাদ ইরান যুদ্ধের প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আবির্ভূত হয় এবং ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গত ছয় সপ্তাহ ধরে সেই যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে।
পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে। অন্যদিকে অর্থনৈতিক সংকটের সময়ে সৌদি আরবও বারবার পাকিস্তানকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/