দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

চরম রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন কিয়ার স্টারমার। ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের কাছে তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন বলে দাবি করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল।
রোববার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী পদত্যাগ করতে চান স্টারমার। তবে তিনি তা করবেন ‘নিজের শর্তে’ এবং মর্যাদা বজায় রেখেই বিদায় নিতে চান।
মন্ত্রিসভার এক সদস্যের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি আর দীর্ঘায়িত করা সম্ভব নয় বলে উপলব্ধি করেছেন স্টারমার। তাই উপযুক্ত সময়েই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিতে পারেন।
ক্রমবর্ধমান জনঅসন্তোষের মুখে বর্তমানে বড় ধরনের চাপে রয়েছে লেবার পার্টির সরকার। পিটার মেন্ডেলসনকে ঘিরে বিতর্ক, শিশু যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইনের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এবং স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির ভরাডুবি—সব মিলিয়ে স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন বেড়েছে।
সবশেষ বড় ধাক্কা আসে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের পদত্যাগের মাধ্যমে। শনিবার তিনি ঘোষণা দেন, লেবার পার্টির নেতৃত্বের লড়াইয়ে স্টারমারকে চ্যালেঞ্জ জানাবেন। একই সঙ্গে স্টারমারকে পদত্যাগের সময়সূচি নির্ধারণের আহ্বানও জানান তিনি।
এদিকে জরিপেও কমছে স্টারমারের জনপ্রিয়তা। ইউগভ ইউকের সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, প্রায় ৬৯ শতাংশ ব্রিটিশ নাগরিক বর্তমানে তার প্রতি নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করছেন। জরিপ সংস্থাটি বলছে, রেকর্ড অনুযায়ী স্টারমার এখন যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে অজনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী।
অনেক বিশ্লেষক তার বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাসের স্বল্পমেয়াদি শাসনামলের তুলনা করছেন। একই সঙ্গে লেবার পার্টির ভেতরেও তার নেতৃত্ব নিয়ে আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে। দলটির অনেক এমপির আশঙ্কা, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে কট্টর ডানপন্থী দল রিফর্ম ইউকের উত্থান আরও শক্তিশালী হতে পারে।
এমএস/