দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

চীনে আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট চ্যাটজিপিটি গুপ্তচরবৃত্তি ও নজরদারির কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
আন্তর্জাতিক অনুসন্ধানী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টস এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিটিজেন ল্যাবের তথ্য অনুযায়ী, চীনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হ্যাকার ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিদেশি সাংবাদিক ও ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর নজরদারিতে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছরের মে মাসে একজন ব্যক্তি তাইওয়ানের সাংবাদিক পরিচয়ে চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেন। পরে লক্ষ্যবস্তু ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে ধীরে ধীরে সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। তদন্তে এই ভুয়া পরিচয়ের পেছনে চীনা-সংশ্লিষ্ট হ্যাকারদের সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
এ ছাড়া ‘গ্লিটার কার্প’ ও ‘সিকুইন কার্প’ নামে পরিচিত দুইটি চীন-সমর্থিত হ্যাকার গ্রুপ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে ফিশিং ইমেইল তৈরির কাজেও যুক্ত ছিল বলে সিটিজেন ল্যাবের গবেষণায় উঠে এসেছে। এসব ইমেইলের মাধ্যমে তথ্য চুরি বা ডিভাইসে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালানো হয়।
এর আগে ওপেনএআই জানিয়েছিল, চীনা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও নজরদারি সংস্থাগুলো বিদেশি লক্ষ্যবস্তু এবং সংখ্যালঘুদের ওপর নজরদারি জোরদারে চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করেছে। একইভাবে অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে, তাদের ‘ক্লড’ নামের এআই টুল ব্যবহার করে চীন-সংযুক্ত হ্যাকাররা যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি কোম্পানি ও সরকারি সংস্থাসহ প্রায় ৩০টি প্রতিষ্ঠানের ওপর আক্রমণের চেষ্টা চালিয়েছে।
যদিও ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিক উভয়ই চীন থেকে তাদের সেবা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, তবুও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে তা পুরোপুরি কার্যকর করা সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভিপিএনসহ বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করে এসব নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের ফলে এর অপব্যবহার ঠেকানো ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। তাই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এআই ব্যবহারে কঠোর নীতিমালা ও নজরদারি জোরদারের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
এমএস/