দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা কমাতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে আলোচনার টেবিলে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন কাতারের পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুলআজিজ আল-খুলাইফি।
আল জাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরানের আঞ্চলিক প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর হামলা কারও জন্যই উপকার বয়ে আনবে না। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলসহ বিভিন্ন দেশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং জ্বালানি নির্ভর অর্থনীতিতেও বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
আল-খুলাইফি বলেন, বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলাসহ বিস্তৃত আক্রমণ নিয়ে কাতার গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তিনি বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত দুঃখজনক।’
তিনি আরও বলেন, স্থায়ী ও টেকসই সমাধানের একমাত্র পথ হলো আলোচনার টেবিলে ফিরে আসা।
কাতারের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা কাতার রাষ্ট্রের ওপর অযৌক্তিক ও ন্যক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা জানাই, যা সরাসরি আমাদের সার্বভৌমত্বকে আঘাত করেছে।’ তিনি জানান, দোহা নিজেদের আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগে সব ধরনের আইনসম্মত পদক্ষেপ নেবে।
আল-খুলাইফি বলেন, এই সংঘাতের সমাধানে একটি বৈশ্বিক উদ্যোগ প্রয়োজন, যাতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা যায়। তিনি বলেন, এই জলপথে চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, কাতার ও ওমানের মতো দেশগুলো অতীতে ইরান ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছিল। কিন্তু হামলা অব্যাহত থাকলে সে ভূমিকা পালন করা সম্ভব হবে না।
তিনি বলেন, ‘আঞ্চলিক দেশগুলো ইরানের শত্রু নয়, কিন্তু ইরান এই বিষয়টি বুঝতে পারছে না।’
কাতারের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানি কয়েক দিন আগে তেহরানের সঙ্গে ফোনালাপে এ বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন বলেও জানান তিনি।
আল-খুলাইফি বলেন, কাতার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও যোগাযোগ বজায় রেখেছে এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সামরিক অভিযান বন্ধ করে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথে এগোনোর আহ্বান জানিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো যুদ্ধ বন্ধ করে আলোচনার টেবিলে ফিরে আসবে।’
সূত্র: আল জাজিরা
এমএস/