দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় কাতারএনার্জি তাদের কিছু দীর্ঘমেয়াদী তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ চুক্তির ওপর ‘ফোর্স মেজার’ (অনিবার্য পরিস্থিতি) ঘোষণা করেছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) ঘোষিত এই সিদ্ধান্তের ফলে ইতালি, বেলজিয়াম, দক্ষিণ কোরিয়া এবং চীনের গ্রাহকরা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
‘ফোর্স মেজার’ হলো চুক্তির এমন একটি ধারা যা কোনো পক্ষকে নিয়ন্ত্রণহীন বা আকস্মিক কোনো ঘটনার কারণে চুক্তির বাধ্যবাধকতা থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেয়। সম্প্রতি কুয়েত ও বাহরাইনের পেট্রোলিয়াম কোম্পানিগুলোও একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি সংঘাত শুরুর পর থেকেই বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন তেল ও গ্যাস স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী নিন্দার ঝড় তুলেছে। এছাড়া ইরান কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমোজ প্রণালী কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে, যে পথ দিয়ে বিশ্বের মোট তেল ও এলএনজি সরবরাহের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ পরিবাহিত হয়। এই রুটটি বন্ধ হওয়ায় জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়ে পড়েছে।
গত সপ্তাহে কাতারএনার্জির সিইও সাদ আল-কাবি জানিয়েছেন, কাতারের রাস লাফান গ্যাস স্থাপনায় ইরানের হামলায় দেশটির এলএনজি রপ্তানি সক্ষমতার প্রায় ১৭ শতাংশ ধ্বংস হয়ে গেছে। এর ফলে বার্ষিক প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা ইউরোপ ও এশিয়ার জ্বালানি নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।
রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আল-কাবি জানান, কাতারের ১৪টি এলএনজি ট্রেনের (গ্যাস তরলীকরণের যন্ত্র) মধ্যে দুটি এবং দুটি গ্যাস-টু-লিকুইড প্ল্যান্টের একটি ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই স্থাপনাগুলো মেরামত করতে ৩ থেকে ৫ বছর সময় লাগতে পারে, যার ফলে বছরে প্রায় ১২.৮ মিলিয়ন টন এলএনজি উৎপাদন বন্ধ থাকবে।
মূলত ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ইরানের বুশেহর প্রদেশের উপকূলে অবস্থিত বিশ্বের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র ‘সাউথ পার্স’-এ হামলা চালানোর পর ইরান পাল্টা হিসেবে রাস লাফানে হামলা চালায়। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে ইসরায়েলি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই ইরানি গ্যাসক্ষেত্রটি কাতারের ‘নর্থ ফিল্ড’-এরই বর্ধিত অংশ।
আল-আনসারি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘বিদ্যমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে এটি একটি বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন পদক্ষেপ। জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা বিশ্ব জ্বালানি নিরাপত্তা এবং এই অঞ্চলের পরিবেশ ও জনগণের জন্য এক বিশাল হুমকি।’
কাতারসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশগুলোও এ অঞ্চলে জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর ইরানের ধারাবাহিক হামলার নিন্দা জানিয়েছে। তারা জোর দিয়ে বলেছে, এই ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘ সনদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।