দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সর্বোচ্চ নেতা নিহত হওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের লাগাতার সামরিক চাপের মুখে ইরান কার্যত একাই দাঁড়িয়ে আছে। দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র রাশিয়া ও চীন এই সংঘাতে সরাসরি কোনো সামরিক সহায়তা না দিয়ে কেবল কূটনৈতিক উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও সংঘাতের প্রভাব ছড়িয়ে দিয়েছে। দেশটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহন হয়, সেই গুরুত্বপূর্ণ রুটেও নৌপরিবহন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সাইপ্রাস, আজারবাইজান, তুরস্ক এবং উপসাগরীয় কয়েকটি দেশের দিকেও পৌঁছেছে বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। এসব হামলায় জ্বালানি অবকাঠামো, তেল শোধনাগার ও সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর আঘাত হানায় তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়েছে।
হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম দ্রুত বেড়ে গেছে। এতে বড় অর্থনীতিগুলো চাপে পড়েছে এবং বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া ও চীনের সংযত অবস্থান একটি ঠান্ডা হিসাব-নিকাশের ফল। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে জড়ালে লাভের চেয়ে ঝুঁকি ও ক্ষতি বেশি হতে পারে বলে মনে করছে দুই দেশই।
ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউটের রাশিয়া বিশেষজ্ঞ আনা বরশেভস্কায়া বলেন, ‘পুতিনের এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার ইউক্রেন যুদ্ধ। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়ানো রাশিয়ার জন্য বোকামি হবে।’
রাশিয়ার এক জ্যেষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, ইরান ও উপসাগরীয় অঞ্চলের সংঘাত ইতোমধ্যে ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে আন্তর্জাতিক মনোযোগ সরিয়ে দিচ্ছে।
চীন ও রাশিয়া অতীতে ইরানের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে ক্ষেপণাস্ত্র, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও প্রযুক্তি সহায়তা দিয়েছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সহায়তা সীমিত পর্যায়েই রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিন ধরে কূটনৈতিক প্রভাব বাড়ালেও চীন এখনো সরাসরি নিরাপত্তা জোটে জড়াতে চায় না। বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অস্ত্র বিক্রির ওপর ভিত্তি করেই তারা অংশীদারিত্ব গড়ে তোলে।
কার্নেগি এনডাওমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের গবেষক ইভান এ ফেইগেনবাউম বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মতো পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিভিত্তিক জোটে না গিয়ে চীন সাধারণত অর্থনৈতিক সম্পর্ককেই অগ্রাধিকার দেয়।
চীনের বড় উদ্বেগ হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ। দেশটির প্রায় ৪৫ শতাংশ তেল আমদানি এই পথেই আসে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেইজিং ইতোমধ্যে কৌশলগত তেল মজুত গড়ে তুলেছে।
এদিকে এই সংকটে রাশিয়াও কিছু সুবিধা দেখছে বলে বিশ্লেষকদের মত। বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ায় রাশিয়ার যুদ্ধ অর্থনীতি শক্তিশালী হচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে ব্যস্ত থাকায় ইউক্রেন ইস্যুতে চাপ কিছুটা কমতে পারে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া ইরান সরকারের পতনও চায় না, আবার তেহরানের ভাগ্যের সঙ্গে নিজেদের ভবিষ্যৎও পুরোপুরি বেঁধে রাখছে না। পরিস্থিতি অনুযায়ী ভবিষ্যতে নতুন কোনো সরকার এলেও তাদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে প্রস্তুত মস্কো।
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/