দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জেফরি এপস্টিন সংক্রান্ত হাজারো নথি তাদের ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে নিয়েছে। নথিগুলো প্রকাশের পর ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, সেখানে ত্রুটিপূর্ণ রেডাকশনের কারণে তাদের পরিচয় ফাঁস হয়ে গেছে। শুক্রবার প্রকাশিত এসব ফাইলে প্রায় ১০০ জন জীবিত ভুক্তভোগীর জীবন ‘উলটপালট’ হয়ে গেছে বলে তাদের আইনজীবীরা জানিয়েছেন।
আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রকাশিত নথিতে ই–মেইল ঠিকানা, নগ্ন ছবি এবং এমন সব তথ্য ছিল, যার মাধ্যমে সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের নাম ও মুখ শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। ভুক্তভোগীরা এক যৌথ বিবৃতিতে এই ঘটনাকে ‘চরম নিন্দনীয়’ বলে উল্লেখ করে বলেন, তাদের ‘নাম প্রকাশ, তল্লাশি ও পুনরায় মানসিক আঘাত’ করা উচিত নয়।
বিচার বিভাগ জানিয়েছে, চিহ্নিত সব ফাইল তারা সরিয়ে নিয়েছে এবং এই ভুল ‘প্রযুক্তিগত বা মানবিক ত্রুটির’ কারণে হয়েছে। সোমবার একটি ফেডারেল আদালতে জমা দেওয়া চিঠিতে সংস্থাটি জানায়, রোববার সন্ধ্যার মধ্যে ভুক্তভোগী বা তাদের আইনজীবীরা যেসব নথি অপসারণের অনুরোধ করেছিলেন, সেগুলো আরও রেডাকশনের জন্য সরানো হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন অনুরোধ ও অন্য সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ নথিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানানো হয়।
কংগ্রেসের উভয় কক্ষের অনুমোদনে বাধ্যতামূলকভাবে এসব নথি প্রকাশের সময় সরকারকে ভুক্তভোগীদের শনাক্ত করতে পারে এমন সব তথ্য গোপন রাখার কথা ছিল। কিন্তু শুক্রবার নিউইয়র্কের এক ফেডারেল আদালতে ভুক্তভোগীদের দুই আইনজীবী ব্রিটানি হেন্ডারসন ও ব্র্যাড এডওয়ার্ডস এই প্রকাশকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে একদিনে ভুক্তভোগীদের গোপনীয়তার ‘সবচেয়ে ভয়াবহ লঙ্ঘন’ বলে আখ্যা দেন। তারা বলেন, হাজার হাজার ক্ষেত্রে নাম ও ব্যক্তিগত তথ্য গোপন না করায় তাৎক্ষণিক আদালত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
ভুক্তভোগীদের মধ্যে কেউ কেউ আদালতে জমা দেওয়া চিঠিতে জানান, প্রকাশিত তথ্য তাদের জীবনের জন্য ‘হুমকিস্বরূপ’ হয়ে উঠেছে। একজন জানান, তার ব্যক্তিগত ব্যাংকিং তথ্য প্রকাশের পর তিনি মৃত্যুর হুমকি পেয়েছেন।
এপস্টিনকাণ্ডের ভুক্তভোগী অ্যানি ফার্মার বিবিসিকে বলেন, বিচার বিভাগের এই ভুলে যে ক্ষতি হয়েছে, তার কারণে নতুন প্রকাশিত তথ্যের দিকেও মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। আরেক ভুক্তভোগী লিসা ফিলিপস জানান, অনেকেই ফলাফলে গভীরভাবে অসন্তুষ্ট। তিনি বলেন, বিচার বিভাগ তাদের তিনটি প্রধান দাবি ভঙ্গ করেছে—সব নথি প্রকাশ না করা, সময়সীমা মানা না হওয়া এবং বহু ভুক্তভোগীর নাম প্রকাশ করা।
নারী অধিকার আইনজীবী গ্লোরিয়া অলরেডও জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক প্রকাশে এমন অনেক ভুক্তভোগীর নাম ও ছবি এসেছে, যারা আগে কখনো প্রকাশ্যে পরিচিত হননি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে নামের ওপর দাগ দেওয়া হলেও তা সহজেই পড়া যাচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
বিচার বিভাগ জানিয়েছে, তারা লাখ লাখ পৃষ্ঠার নথিতে হাজারো ভুক্তভোগীর নাম গোপন করেছে এবং এখন পর্যন্ত মাত্র শূন্য দশমিক এক শতাংশ পৃষ্ঠায় এমন তথ্য রয়ে গেছে, যা থেকে কাউকে শনাক্ত করা সম্ভব।
গত বছর আইন অনুযায়ী এপস্টিন সংক্রান্ত নথি প্রকাশ শুরু করে বিচার বিভাগ। সর্বশেষ শুক্রবার তিন মিলিয়ন পৃষ্ঠা, এক লাখ আশি হাজার ছবি ও দুই হাজার ভিডিও প্রকাশ করা হয়। তবে এই প্রকাশ নির্ধারিত সময়ের ছয় সপ্তাহ পরে হয়।
উল্লেখ্য, যৌন পাচারের অভিযোগে বিচারাধীন অবস্থায় ২০১৯ সালের ১০ আগস্ট নিউইয়র্কের একটি কারাগারে জেফরি এপস্টিনের মৃত্যু হয়।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/