দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, আরব সাগরে তাদের একটি বিমানবাহী রণতরীর দিকে ‘আক্রমণাত্মকভাবে’ এগিয়ে আসা একটি ইরানি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে। মঙ্গলবার ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন থেকে উড্ডয়ন করা একটি এফ–৩৫সি স্টেলথ যুদ্ধবিমান ‘আত্মরক্ষার’ অংশ হিসেবে ড্রোনটি ধ্বংস করে বলে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স জানিয়েছেন।
তিনি জানান, ড্রোনটি যখন রণতরীর দিকে আসে তখন সেটি ইরানের উপকূল থেকে প্রায় ৫০০ মাইল দূরে অবস্থান করছিল এবং এর উদ্দেশ্য স্পষ্ট ছিল না। তবে এ ঘটনায় কোনো মার্কিন সরঞ্জামের ক্ষতি হয়নি এবং কোনো সেনাসদস্য আহতও হননি।
ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল, যখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে এবং যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি তার পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার বিষয়ে কোনো সমঝোতায় না আসে, তবে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
ড্রোন ভূপাতিত হওয়ার পর হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট ফক্স নিউজকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা এ সপ্তাহের শেষ দিকে নির্ধারিত সময়েই হবে। তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দেন, তবে তাঁর কাছে সব ধরনের বিকল্প খোলা আছে, যার মধ্যে সামরিক শক্তির ব্যবহারও রয়েছে।’
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এর আগে সতর্ক করে বলেছেন, ইরানে কোনো হামলা হলে তা ‘আঞ্চলিক যুদ্ধ’ ডেকে আনবে। তবে মঙ্গলবারের ড্রোন ভূপাতিতের ঘটনার বিষয়ে তেহরান এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।
একই দিনে আরেক ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানায়, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাবাহী একটি বাণিজ্যিক জাহাজকে ‘হয়রানি’ করেছে। পরে সামরিক সহায়তায় পরিস্থিতি শান্ত হলে ট্যাংকারটি নিরাপদে যাত্রা অব্যাহত রাখে।
হোয়াইট হাউস আরও জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে আসন্ন আলোচনায় অংশ নেবেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গণমাধ্যমে ইস্তাম্বুলে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে তাঁর বৈঠকের কথা বলা হলেও পরে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, তেহরান বৈঠকের স্থান ওমান করতে চায় এবং কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি চায়। যুক্তরাষ্ট্র নাকি এই প্রস্তাবে সম্মত হয়েছে, যদিও হোয়াইট হাউস আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।
এর আগে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, ‘উপযুক্ত পরিবেশ থাকলে’ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে তারা প্রস্তুত। একই সঙ্গে ওয়াশিংটন তেহরানকে গত বছর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় চালানো মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার কথাও স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে, যাকে ট্রাম্প ‘ধ্বংসাত্মক’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, নতুন কোনো হামলা হলে তা আরও ভয়াবহ হবে।
ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে যে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ এবং তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে না। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দেশটিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমন নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র সমালোচনা চলছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন এইচআরএএনএ বলেছে, এতে ৬ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে, যদিও ইরানি কর্তৃপক্ষ সরকারি হিসাবে কমসংখ্যক প্রাণহানির কথা স্বীকার করেছে এবং অধিকাংশকে ‘নিরাপত্তা বাহিনী বা দাঙ্গাকারীদের’ সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করেছে।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/