দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নতুন প্রকাশিত এপস্টিন ফাইল অনুযায়ী, মক্কার কাবা থেকে একটি পবিত্র কাপড়ের টুকরো যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়েছিল। এটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের পরিচিতদের মাধ্যমে বিতরণ করা হয় এবং জেফরি এপস্টিনের কাছে পৌঁছায়।
ফেব্রুয়ারি ও মার্চ ২০১৭ সালের এই ইমেইলগুলোতে দেখা যায় যে, আরব আমিরাতভিত্তিক ব্যবসায়ী আজিজা আল-আহমাদি আবদুল্লাহ আল-মারির সঙ্গে কাজ করে তিনটি কাপড়ের টুকরো পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিলেন। এগুলো কাবার কিসওয়া—সৌদি আরবের ইসলামের পবিত্রতম স্থানে কাবাকে আচ্ছাদিত করা কালো কাপড়, যার উপর স্বর্ণকাঁথা রয়েছে—এর সঙ্গে সম্পর্কিত।
কিসওয়া মুসলমানদের জন্য গভীর ধর্মীয় তাৎপর্য বহন করে। প্রতি বছর পুরানো কাপড় সরানো হয় এবং নতুন কিসওয়া দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়। আগের কিসওয়ার টুকরোগুলো উচ্চ মূল্যবান প্রত্নতাত্ত্বিক দ্রব্য হিসেবে গণ্য করা হয়।
ফাইলের ইমেইলগুলোতে দেখা যায়, এই কাপড়গুলি সৌদি আরব থেকে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের মাধ্যমে ফ্লোরিডায় পাঠানো হয়, যার মধ্যে চালান, কাস্টমস এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভিতরে ডেলিভারি সহ সমন্বয় করা হয়। ইমেইলে তিনটি আলাদা টুকরোর উল্লেখ রয়েছে—একটি কাবার ভিতরের অংশ থেকে, একটি ব্যবহৃত বাইরের আচ্ছাদন থেকে এবং একটি ব্যবহার করা হয়নি এমন টুকরো, যা “শিল্পকর্ম” হিসেবে পাঠানোর জন্য চিহ্নিত করা হয়। মার্চ ২০১৭ সালে পাঠানো এই চালান পৌঁছায়, তখন এপস্টিন ইতিমধ্যেই জেলমুক্ত হয়ে এবং যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত ছিলেন।
একটি ইমেইলে আহমাদি সরাসরি এপস্টিনকে বলেন, “কালো টুকরোটি ন্যূনতম ১০ মিলিয়ন মুসলিমের দ্বারা স্পর্শ করা হয়েছে, সুনী, শিয়া ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের।” তিনি আরও লিখেন, “তারা কাবার চারপাশে সাত বারের জন্য ঘুরে, চেষ্টা করে যতটা সম্ভব এটিকে স্পর্শ করার, তাদের প্রার্থনা, আশা, কান্না এবং ইচ্ছা এতে রেখেছে।”
ইমেইলগুলোতে উল্লেখ নেই, আহমাদি কীভাবে এপস্টিনের সঙ্গে পরিচিত হন বা কেন এই কাপড়ের টুকরো পাঠানো হয়। একই ইমেইল চেইনে দেখা যায়, ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে হ্যারিকেন আর্মার ক্যারিবিয়ানে আঘাত হানার পর আহমাদি এপস্টিনের অবস্থার খোঁজ নেন। তিনি কয়েক দিন ধরে এপস্টাইনের সেক্রেটারিকে বারবার যোগাযোগ করেন।
এপস্টিনের দীর্ঘকালীন সহকারী লেসলি গ্রফ আহমাদিকে একটি ডিএনএ পরীক্ষা কিট পাঠান, উদ্দেশ্য অজানা। ইমেইলে দেখা যায়, এপস্টাইন সরাসরি আহমাদির সঙ্গে খুব কমই যোগাযোগ করেন।
এছাড়া, শুক্রবার প্রকাশিত একটি এফবিআই মেমোতে বলা হয়েছে, এপস্টিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে কাজ করেছেন।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই
এমএস/