দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মার্কিন কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক জেফ্রি এপস্টেইন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করেছিলেন বলে নতুন প্রকাশিত নথিতে উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ প্রকাশিত এসব নথিতে দেখা যায়, ২০১৮ সালের জুনে তিনি রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের মাধ্যমে পুতিনের কাছে পৌঁছাতে উদ্যোগ নেন।
নথি অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ২৪ জুন ইউরোপ কাউন্সিলের তৎকালীন মহাসচিব নরওয়ের রাজনীতিক থরবিয়র্ন ইয়াগল্যান্ডকে ইমেইল করে এপস্টেইন লেখেন, রাশিয়ার সাবেক জাতিসংঘ রাষ্ট্রদূত ভিতালি চুরকিন আগে তার সঙ্গে কথা বলতেন এবং পুতিনকে তিনি বিষয়টি জানাতেন, তবে চুরকিন মারা যাওয়ায় এখন লাভরভের মাধ্যমে সেই যোগাযোগ আবার চালু করা যেতে পারে। ইয়াগল্যান্ড জানান, তিনি লাভরভের সহকারীর সঙ্গে দেখা করে বিষয়টি তুলবেন। জবাবে এপস্টেইন লেখেন, চুরকিন তার সঙ্গে কথাবার্তার পর ট্রাম্পকে বুঝতেন এবং পুতিনকে কিছু দেওয়ার মতো দেখাতে পারলেই কাজ এগোবে।
নথিতে আরও দেখা যায়, এপস্টেইন একাধিকবার পুতিনের সঙ্গে দেখা বা কথা বলার চেষ্টা করেছিলেন। ২০১৩ সালের মে মাসে তিনি ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাককে জানান, ইয়াগল্যান্ড সোচিতে পুতিনের সঙ্গে দেখা করবেন এবং তাকে জিজ্ঞেস করেছেন এপস্টেইন কি রাশিয়ায় পশ্চিমা বিনিয়োগ টানার উপায় ব্যাখ্যা করতে পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চান কি না। পরে এপস্টেইন বারাককে লেখেন, তিনি পুতিনের সঙ্গে দেখা করেননি, তবে ইয়াগল্যান্ড পুতিনকে জানাতে রাজি হয়েছেন যে এপস্টেইন সহায়তা করতে পারেন।
এপস্টেইনের ইমেইলে দাবি করা হয়, তিনি বিল গেটসকে পরামর্শ দেন এবং পুতিনের সঙ্গে দুই থেকে তিন ঘণ্টার বৈঠক চান। বিল গেটসের পক্ষ থেকে পরে জানানো হয়, এপস্টেইনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা ছিল তার বড় ধরনের ভুল সিদ্ধান্ত, তবে কোনো অনিয়ম হয়নি।
নথিতে এমনও দাবি রয়েছে যে ২০১৩ সালে সেন্ট পিটার্সবার্গের এক অর্থনৈতিক সম্মেলনে পুতিন এপস্টেইনের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন, তবে এপস্টেইন সময় ও গোপনীয়তার অভাবে তা প্রত্যাখ্যান করেন, যদিও এর সত্যতা নিশ্চিত নয়। ২০১৪ সালে এক ইমেইলে বলা হয়, এপস্টেইনের পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের কথা ছিল এবং তিনি লিংকডইনের প্রতিষ্ঠাতাকে সেখানে যোগ দিতে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।
রাশিয়ার সঙ্গে এপস্টেইনের যোগাযোগের বিষয়টি নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক জানিয়েছেন, এপস্টেইনের সঙ্গে রুশ গোয়েন্দা সংস্থার সম্ভাব্য সম্পর্ক খতিয়ে দেখতে দেশটি তদন্ত শুরু করছে। তিনি বলেন, এই কেলেঙ্কারি রাশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত হয়ে থাকতে পারে এবং এতে বর্তমান অনেক নেতার বিরুদ্ধে আপত্তিকর তথ্য তাদের হাতে থাকতে পারে।
ক্রেমলিন অবশ্য এসব অভিযোগ নাকচ করেছে। মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, এপস্টেইন রুশ গোয়েন্দাদের নিয়ন্ত্রিত ছিলেন এমন ধারণা গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়ার মতো নয়।
নথিতে দেখা যায়, এপস্টেইনের ঘনিষ্ঠ রুশ পরিচিতদের মধ্যে ছিলেন সের্গেই বেলিয়াকভ, যিনি রাশিয়ার এফএসবি একাডেমির সাবেক শিক্ষার্থী এবং সেন্ট পিটার্সবার্গ অর্থনৈতিক ফোরামের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এপস্টেইন তাকে ‘আমার খুব ভালো বন্ধু’ বলে উল্লেখ করেন এবং নিউইয়র্কের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। এক ইমেইলে এপস্টেইন বেলিয়াকভকে জানান, মস্কোর এক নারী নিউইয়র্কের প্রভাবশালী ব্যবসায়ীদের ব্ল্যাকমেইল করছে এবং সে বিষয়ে পরামর্শ চান।
এপস্টেইনের সঙ্গে যুক্ত আরেক রুশ নাগরিক ছিলেন মাশা দ্রোকোভা বুচার, যিনি ২০১৭ সালে তার জনসংযোগে কাজ করেন। তিনি আগে পুতিনপন্থী যুব সংগঠন নাশি’র সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং পরে ইউক্রেন যুদ্ধের পর রুশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করেন। এপস্টেইনের সহায়তায় তিনি নিজস্ব বিনিয়োগ তহবিল গড়ে তোলেন বলে নথিতে উল্লেখ আছে।
বিচার বিভাগ প্রকাশিত নথিতে আরও জানা যায়, এপস্টেইন ও গিসলেন ম্যাক্সওয়েল ২০০২ সালে রাশিয়া সফর করেন এবং ২০১৮ ও ২০১৯ সালে আবার রুশ ভিসা নেওয়ার উদ্যোগ নেন। ১৯৯৮ সালে রাশিয়ার সারোভ শহরে তার একটি ছবিও পাওয়া গেছে, যা একটি পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব নথি থেকে এপস্টেইনের রাশিয়ার শীর্ষ মহলের সঙ্গে প্রকৃত যোগাযোগ কতটা গভীর ছিল তা স্পষ্ট নয়, তবে তিনি আন্তর্জাতিক ক্ষমতাবানদের ঘনিষ্ঠ হয়ে নিজেকে ভূরাজনৈতিক প্রভাবশালী হিসেবে তুলে ধরতে আগ্রহী ছিলেন বলে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
সূত্র- সিএনএন
এমএস/