দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই সমুদ্রের নিচে নির্মিত ক্ষেপণাস্ত্র টানেলের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক উন্মোচন করেছে ইরান। তেহরানের দাবি, এসব টানেলে শত শত দূরপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র মজুত রয়েছে। একই সঙ্গে ইরান সতর্ক করে বলেছে, দেশটির ওপর কোনো হামলা হলে হরমুজ প্রণালি নিরাপদ থাকবে না।
সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ আরবের তথ্য অনুযায়ী, ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ফুটেজে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর কমান্ডার আলিরেজা তাংসিরিকে সাবমেরিন ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনার ভেতরে দেখা যায়। সেখানে সারিবদ্ধভাবে রাখা রকেট দেখানো হয়, যেগুলো উৎক্ষেপণের জন্য প্রস্তুত বলে দাবি করা হয়।
তাংসিরি বলেন, ‘পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরে অবস্থানরত মার্কিন জাহাজকে মোকাবিলার লক্ষ্যে সমুদ্রের নিচে রয়েছে এই ক্ষেপণাস্ত্র টানেল নেটওয়ার্ক।’ তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব টানেলে এক হাজার কিলোমিটারেরও বেশি পাল্লার শত শত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে।
তিনি জানান, আইআরজিসি নৌবাহিনীর তৈরি ‘কাদের ৩৮০ এল’ ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা এক হাজার কিলোমিটারের বেশি এবং এতে থাকা স্মার্ট গাইডেন্স ব্যবস্থা আঘাতের মুহূর্ত পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুকে অনুসরণ করতে সক্ষম।
ইরানের নিয়ন্ত্রণে হরমুজ
আইআরজিসি নৌবাহিনীর রাজনৈতিক উপ-প্রধান মোহাম্মদ আকবরজাদেহ বলেন, ‘আকাশ, স্থলভাগ ও পানির নিচ—সব ক্ষেত্রেই হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে।’
ফার্স নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘ইরান প্রণালিটির তাৎক্ষণিক গোয়েন্দা তথ্য পাচ্ছে এবং এর নিরাপত্তা পুরোপুরি তেহরানে নেওয়া সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল।’
হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন ২ কোটি ১০ লাখের বেশি ব্যারেল তেল পরিবাহিত হয়, যা বৈশ্বিক তেল পরিবহনের প্রায় ৩৭ শতাংশ।
আকবরজাদেহ বলেন, ‘আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইরান বিভিন্ন দেশের পতাকাবাহী জাহাজ শনাক্ত ও অনুসরণ করতে সক্ষম।’
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘তেহরান যুদ্ধ চায় না, তবে যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হলে জবাব হবে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে কঠোর।’ তার ভাষায়, বিশেষ করে আকাশ প্রতিরক্ষায় ইরানের প্রস্তুতি এখন ‘খুবই উচ্চ পর্যায়ে’ রয়েছে।’
উল্লেখ্য, এই ঘোষণাগুলো এমন এক সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা নতুন করে বাড়ছে, আর তার প্রভাব পড়তে পারে পুরো মধ্যপ্রাচ্য ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে।
সূত্র: দ্য নিউ আরব
/অ