দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর সুযোগ খুঁজছে এবং এমন কোনো পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে আরও অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে। শুক্রবার তুরস্কের বেসরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
ফিদান বলেন, ‘আমি আশা করি তারা ভিন্ন কোনো পথ খুঁজে নেবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, বিশেষ করে ইসরায়েল ইরানে আঘাত হানার সুযোগ খুঁজছে।’ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল উভয়ের ক্ষেত্রেই কি এই মূল্যায়ন প্রযোজ্য—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিশেষ করে ইসরায়েলই এমন সুযোগ খুঁজছে।’
সাম্প্রতিক তেহরান সফরে ইরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বলেও জানান ফিদান। তিনি বলেন, ‘আমি কয়েক দিন আগে তেহরানে গিয়ে বন্ধু হিসেবে পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে তাদের সব বলেছি। বন্ধু সত্য কথাই বলে, তা তেতো হলেও।’
এর আগে বৃহস্পতিবার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ফোনালাপে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে বলেন, ইরানে কোনো বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে তুরস্ক এবং প্রতিবেশী দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে গুরুত্ব দেয়। একই দিন এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, শত্রুপক্ষের যেকোনো হামলাকে তেহরান ‘আমাদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ’ হিসেবে দেখবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার বলেন, তিনি ইরানকে লক্ষ্য করে উপসাগরীয় অঞ্চলের দিকে একটি ‘নৌবহর’ পাঠিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের এমন সামরিক তৎপরতা নিয়ে ওই ইরানি কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা আশা করি এটি বাস্তব সংঘাতের উদ্দেশ্যে নয়, তবে আমাদের সেনাবাহিনী সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত। তাই ইরানে সবকিছু সর্বোচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সীমিত, অসীম, সার্জিক্যাল বা যাই বলা হোক—যেকোনো হামলাকেই আমরা সর্বাত্মক যুদ্ধ হিসেবে নেব এবং সবচেয়ে কঠোরভাবে জবাব দেব।’
যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম জানিয়েছে, ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরী ও তার বহর দক্ষিণ চীন সাগর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে রওনা হয়েছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলে পৌঁছাতে পারে। সর্বশেষ ২০২৪ সালের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের সংঘাতের সময় এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার আগে ওয়াশিংটন এ ধরনের বড় নৌসমাবেশ করেছিল।
সূত্র: আল জাজিরা
এমএস/