দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ন্যাটো ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রকে রক্ষা করবে কি না এ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আফগানিস্তান যুদ্ধে ন্যাটো সেনারা নাকি ‘ফ্রন্ট লাইনের একটু পেছনে’ ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এমন মন্তব্য করেন। খবর বিবিসি
এদিকে ট্রাম্পের এমন মন্তব্যে যুক্তরাজ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। রাজনীতিক ও নিহত-আহত সেনাদের পরিবারগুলো এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন।
ব্রিটিশ মন্ত্রী স্টিফেন কিনক বলেন, তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্যে ‘হতাশাজনক’, আর কনজারভেটিভ নেতা কেমি ব্যাডেনক একে ‘একেবারে আজগুবি কথা’ বলে আখ্যা দেন।
গুরুতর আহত ব্রিটিশ সেনা বেন পারকিনসনের মা বলেন, ট্রাম্পের মন্তব্যটি ছিল ‘চরম অপমান’।
২০০১ সালে ৯/১১ সন্ত্রাসী হামলার পর ন্যাটোর যৌথ নিরাপত্তা ধারা কার্যকর হলে যুক্তরাজ্যসহ একাধিক মিত্র দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আফগানিস্তান যুদ্ধে যোগ দেয়। এই সংঘাতে ৪৫৭ জন ব্রিটিশ সেনা নিহত হন।
ন্যাটো চুক্তির অনুচ্ছেদ ৫—যেখানে বলা হয়েছে, ন্যাটোর কোনো এক সদস্যের ওপর সশস্ত্র আক্রমণকে সবার ওপর আক্রমণ হিসেবে ধরা হবে—এখন পর্যন্ত কেবল যুক্তরাষ্ট্রই ব্যবহার করেছে।
বৃহস্পতিবার ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র হুমকির মুখে পড়লে ন্যাটো আদৌ ‘‘চূড়ান্ত পরীক্ষায়” উত্তীর্ণ হবে কি না, সে বিষয়ে তিনি “নিশ্চিত নন”।
তিনি বলেন, ‘আমাদের কখনো তাদের দরকার পড়েনি… তারা বলবে, তারা আফগানিস্তানে কিছু সেনা পাঠিয়েছিল… আর হ্যাঁ, পাঠিয়েছিল—কিন্তু তারা একটু পেছনে ছিল, ফ্রন্টলাইনের একটু বাইরে।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপ ও অনেক দেশের প্রতি খুব ভালো ছিল। কিন্তু সম্পর্কটা হতে হবে দুই দিক থেকে।’
এই মন্তব্যের আগে সপ্তাহের শুরুতেও তিনি ন্যাটোকে ‘অতিরঞ্জিত’ বলে অভিহিত করেন এবং সংকটের সময় সদস্য দেশগুলোর প্রতিক্রিয়া নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন।
দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে যোগ দেওয়ার আগে তিনি বলেন, ‘আমি জানি আমরা ন্যাটোকে উদ্ধার করতে যাব, কিন্তু তারা আমাদের উদ্ধার করতে আসবে কি না—সেটা নিয়ে আমার সত্যিই প্রশ্ন আছে।’
বৃহস্পতিবার রাতে ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে লেখেন, ‘হয়তো আমাদের ন্যাটোকে পরীক্ষায় ফেলা উচিত ছিল—অনুচ্ছেদ ৫ কার্যকর করে ন্যাটোকে এখানে এসে আমাদের দক্ষিণ সীমান্তকে অবৈধ অভিবাসীদের আগ্রাসন থেকে রক্ষা করতে বাধ্য করা উচিত ছিল। তাহলে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বহু সদস্যকে অন্য কাজে লাগানো যেত।’
এবি/