দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান নিয়ে শান্তি পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। রোববার ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের বাসভবনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে ইউক্রেনের ভূখণ্ড ইস্যুতে দুই পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
বৈঠকের আগের দিন শনিবার রাশিয়া কিয়েভসহ ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এতে রাজধানীর কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ ও গরমের ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। জেলেনস্কি বলেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় চলমান শান্তি উদ্যোগের প্রতি রাশিয়ার প্রতিক্রিয়া।
জেলেনস্কি সাংবাদিকদের জানান, বৈঠকে তিনি পূর্ব ইউক্রেনের বিতর্কিত দোনবাস অঞ্চল, জাপোরিঝঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভবিষ্যৎসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরবেন। ইউক্রেনের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্হিই কিসলিৎসিয়া জানান, শনিবার গভীর রাতে জেলেনস্কি ও তার প্রতিনিধি দল ফ্লোরিডায় পৌঁছান।
এদিকে রাশিয়া আবারও দাবি করেছে, দোনবাসের পুরো এলাকা ইউক্রেনকে ছেড়ে দিতে হবে। মস্কো সাম্প্রতিক প্রস্তাবের একাধিক দিকের বিরোধিতা করেছে, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে—রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আদৌ কোনো সমঝোতায় রাজি হবেন কি না। শনিবার পুতিন বলেন, দ্রুত শান্তির পথে না এলে রাশিয়া যুদ্ধ চালিয়ে যাবে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুদ্ধক্ষেত্রে অগ্রগতি দাবি করেছে রাশিয়া।
জেলেনস্কি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে ইউক্রেনীয় বাহিনীকে পুরো দোনবাস ছাড়ার বিষয়টি তিনি পরিবর্তন করতে চান। তা সম্ভব না হলে ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনাটি গণভোটে তোলার কথাও ভাবছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা এটিকে অগ্রগতির ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। তবে এর জন্য অন্তত ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি প্রয়োজন বলে জেলেনস্কি উল্লেখ করেন।
সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ইউক্রেনের জনগণের বড় একটি অংশ এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করতে পারে। কিয়েভের বাসিন্দারাও আলোচনার ফল নিয়ে আশা ও সংশয়ের কথা জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেন অনেক বিষয়ে একমত হলেও সবচেয়ে বড় অমীমাংসিত প্রশ্ন রয়ে গেছে ভূখণ্ড নিয়ে। রাশিয়া পুরো দোনবাস দাবি করলেও ইউক্রেন বর্তমান যুদ্ধরেখা ধরে পরিস্থিতি স্থির রাখতে চায়। যুক্তরাষ্ট্র আপসের অংশ হিসেবে দোনবাস এলাকায় একটি মুক্ত অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। পাশাপাশি জাপোরিঝঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র যৌথভাবে পরিচালনার কথাও আলোচনায় রয়েছে।
রাশিয়া ইতোমধ্যে ২০১৪ সালে দখল করা ক্রিমিয়াসহ ইউক্রেনের প্রায় ১২ শতাংশ ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণে রেখেছে বলে দাবি করছে মস্কো। পুতিন বলেছেন, শান্তি চুক্তির শর্ত হিসেবে ইউক্রেনকে দোনবাস, জাপোরিঝঝিয়া ও খেরসন অঞ্চল ছাড়তে হবে এবং ন্যাটোতে যোগদানের লক্ষ্য ত্যাগ করতে হবে।
ইউক্রেন ও ইউরোপীয় নেতারা এই যুদ্ধকে রাশিয়ার সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন হিসেবে দেখছেন এবং সতর্ক করেছেন, ইউক্রেনে সফল হলে ভবিষ্যতে রাশিয়া ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোকেও হুমকির মুখে ফেলতে পারে।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লায়েন বলেন, ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডের অখণ্ডতা বজায় রেখে ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী শান্তিই তাদের লক্ষ্য। ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গেও আলোচনা করবেন বলে জানিয়েছেন জেলেনস্কি।
সূত্র- রয়টার্স
এমএস/