দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ভারতের উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনে জাতিগত বিদ্বেষমূলক হামলায় ত্রিপুরার এক আদিবাসী ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। নিহত ছাত্রের নাম অ্যাঞ্জেল চাকমা। তিনি ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের এক সদস্যের ছেলে।
গত ৯ ডিসেম্বর দেরাদুনে মদ্যপ অবস্থায় থাকা একদল যুবক অ্যাঞ্জেল চাকমা ও তার ভাই মাইকেল চাকমার ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাদের ‘চাইনিজ’, ‘চিঙ্কি’ ও ‘মোমোস’ বলে গালিগালাজ করে। এসব মন্তব্যের প্রতিবাদ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং একপর্যায়ে সহিংসতায় রূপ নেয়। এ সময় অ্যাঞ্জেলের মাথা ও পিঠে ছুরিকাঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে দীর্ঘ চিকিৎসার পর ২৬ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।
নিহত অ্যাঞ্জেল চাকমার বয়স ছিল ২৪ বছর। তিনি ত্রিপুরার উত্তর জেলার পেচারথল এলাকার বাসিন্দা এবং দেরাদুনে এমবিএ পড়ছিলেন।
চাকমা ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, এটি একটি স্পষ্ট জাতিগত বিদ্বেষপ্রসূত হত্যাকাণ্ড। সংগঠনটি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের হস্তক্ষেপ দাবি করেছে।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ পাঁচজন স্থানীয় বাসিন্দাকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে মূল অভিযুক্ত এখনও পলাতক রয়েছে। সিডিএফআইয়ের অভিযোগ, উত্তরাখণ্ড পুলিশ ঘটনার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেয়নি। তিন দিন দেরিতে মামলা করা হয় এবং শুরুতে হত্যা বা জাতিগত সহিংসতার কঠোর ধারাগুলো প্রয়োগ করা হয়নি। এর সুযোগেই প্রধান অভিযুক্ত পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
সিডিএফআই বলেছে, এই হত্যাকাণ্ড ২০১৪ সালে দিল্লিতে অরুণাচলের যুবক নিডো তানিয়ার হত্যার মতো আগের জাতিগত সহিংসতার ঘটনাগুলোর সঙ্গে মিল রয়েছে। সংগঠনটির দাবি, উত্তর-পূর্ব ভারতের মানুষের বিরুদ্ধে চলমান জাতিগত বৈষম্য ও সহিংসতা ঠেকাতে বিদ্যমান আইন যথেষ্ট নয়।
সংগঠনটি অ্যাঞ্জেল চাকমার হত্যায় হত্যা মামলা রুজু, দ্রুত মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার, নিহতের পরিবারকে এক কোটি রুপি ক্ষতিপূরণ এবং দেরাদুনে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মানুষের জন্য বিশেষ হেল্পলাইন চালুর দাবি জানিয়েছে।
এমএস/