দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে কলেজছাত্রসহ দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (৮ মে) গভীর রাতে উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের পাথারিয়াদ্বার সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- মো. মোরছালিন (২২), নবীর হোসেন (৪০)।
নিহত মোরছালিন কসবা উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের ধজনগর বাতানবাড়ি এলাকার বাসিন্দা হেবজু মিয়ার ছেলে এবং স্থানীয় শাহআলম ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। আর নবীর হোসেনের বাড়ি মধুপুর গ্রামে। দুজনের মরদেহ আগরতলার জিবি হাসপাতালে রয়েছে বলে পারিবারিক সূত্র জানায়।
একই ঘটনায় একাধিক বাংলাদেশি তরুণ আহত হন। তবে তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। চিকিৎসার জন্য তাদেরকে কুমিল্লায় নেওয়া হয়েছে।
নিহতদের পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েকজন চোরাকারবারী রাতে মোরছালিনকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পাথারিয়াদ্বার সীমান্তে নিয়ে যায়। একই সময়ে নবীর হোসেনসহ কয়েকজন সীমান্ত এলাকায় যায়। এ সময় বিএসএফ তাদেরকে লক্ষ্য করে গুলি করলে ঘটনাস্থলে মুরছালিন নিহত হয়। পরে তার মরদেহ ভারতে নিয়ে যায়। এ সময় আহত নবীর হোসেনকেও নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
নবীর হোসেনের ছেলে মো. তপন জানান, তার বাবা সন্ধ্যা থেকেই বাড়িতে ছিলেন না। তিনি সীমান্ত এলাকায় যাওয়ার পর বিএসএফ গুলি করে মরদেহ নিয়ে যায়। বিভিন্ন মাধ্যমে বাবার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন বলে জানান তিনি।
সুলতানপুর ব্যাটালিয়ন-৬০ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্ণেল এস এম শরিফুল ইসলাম জানান, গত রাতে সীমান্তে ১৫ জন বাংলাদেশী চোরাকারবারী ভারতীয় চোরাকারবারীর সহায়তায় চোরাচালানের উদ্দেশ্যে আনুমানিক ২০০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে ধজনগর-পাথারিয়াদ্বার এলাকায় প্রবেশ করে। এ সময় ভারত হতে চোরাচালানী মালামাল নিয়ে আসার সময় প্রতিপক্ষ ৪৯ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের পাথারিয়াদ্বার ক্যাম্পের টহল তাদের চোরাচালানে বাঁধা প্রদান করলে বাংলাদেশি চোরাকারবারী বিএসএফ সদস্যরদের উপর চড়াও হয়। পরে বিএসএফ সদস্যদের সাথে হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তি হয়। হাতাহাতির এক পর্যায়ে বিএসএফ সদস্যরা চোরাকারবারীর উপর গুলি করলে ঘটনাস্থলে একজন নিহত হয় অপরজন ভারতের একটি হাসপতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। দুজনের মরদেহ ফ্ল্যাগ মিটিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে।
কেএম