দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ভেনেজুয়েলার উপকূলের কাছে আন্তর্জাতিক জলসীমায় একটি তেলবাহী ট্যাংকার আটক করার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে রাশিয়ার সঙ্গে উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় সরবরাহ বিঘ্নের আশঙ্কাও বেড়েছে।
সোমবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ১১ ডলার বা ১ দশমিক ৮৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬১ দশমিক ৫৮ ডলারে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই তেলের দাম বেড়ে হয়েছে ব্যারেলপ্রতি ৫৭ দশমিক ৫৬ ডলার।
বিশ্লেষকদের মতে, ভেনেজুয়েলার তেল রপ্তানির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কার্যকরভাবে প্রয়োগ শুরু হওয়ায় সরবরাহ ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে উদ্বিগ্ন হচ্ছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। ইউবিএসের বিশ্লেষক জিওভান্নি স্তাউনোভো বলেন, আগে বাজার এ বিষয়ে কিছুটা উদাসীন ছিল, এখন সেই মনোভাব বদলাচ্ছে। বিশ্বব্যাপী মোট তেল সরবরাহের প্রায় ১ শতাংশ আসে ভেনেজুয়েলা থেকে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ওপেক প্লাসভুক্ত দেশগুলোর উৎপাদন বাড়ায় চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে ব্রেন্টের দাম সাধারণত ৬৫ ডলারের আশপাশে ছিল। তবে অতিরিক্ত সরবরাহের আশঙ্কায় গত এক মাসে দাম কিছুটা কমেছিল। এর মধ্যেই ভেনেজুয়েলা ও রাশিয়া-ইউক্রেন পরিস্থিতি তেলের দামে নতুন চাপ তৈরি করছে।
স্পার্টা কমোডিটিজের বিশ্লেষক জুন গোহ বলেন, বাজার সামগ্রিকভাবে দুর্বল থাকলেও ভেনেজুয়েলার ঘটনাপ্রবাহ ও রাশিয়া-ইউক্রেন উত্তেজনা তেলের দামে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের কোস্টগার্ড ভেনেজুয়েলার কাছে আন্তর্জাতিক জলসীমায় আরেকটি তেলবাহী জাহাজ ধাওয়া করছে। সফল হলে এটি হবে এক সপ্তাহান্তে দ্বিতীয় এবং দুই সপ্তাহের মধ্যে তৃতীয় এমন অভিযান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে নিষেধাজ্ঞাভুক্ত ভেনেজুয়েলার তেলবাহী জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে ‘সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক’ অবরোধের ঘোষণা দেন। এ ছাড়া ভূমধ্যসাগরে রাশিয়ার ছায়া নৌবহরের একটি জাহাজে ইউক্রেনের ড্রোন হামলার খবরও বাজারে প্রভাব ফেলেছে।
গত সপ্তাহে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই উভয় তেলের দাম প্রায় ১ শতাংশ কমেছিল।
এদিকে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা চলছে। মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ জানান, ফ্লোরিডায় তিন দিনের বৈঠকে অবস্থান সমন্বয়ের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে। তবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের শীর্ষ পররাষ্ট্রনীতি উপদেষ্টা বলেন, ইউরোপ ও ইউক্রেনের প্রস্তাব সংশোধন শান্তির সম্ভাবনা বাড়ায়নি।
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/