দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সীমান্তে প্রাণঘাতী সংঘাত বন্ধের লক্ষ্যে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া আগামী সপ্তাহে আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছে। থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি পুনরুজ্জীবনের সম্ভাবনা নিয়ে দুই দেশের কর্মকর্তারা বৈঠক করবেন। সীমান্তে টানা তৃতীয় সপ্তাহে সংঘর্ষ চলার মধ্যেই এ ঘোষণা এলো।
চলতি বছরের জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও চলতি মাসের শুরুতে আবার সংঘর্ষ শুরু হয়। নতুন করে সহিংসতার জন্য দুই দেশই একে অপরকে দায়ী করছে।
সোমবার মালয়েশিয়ায় আসিয়ান সম্মেলনের ফাঁকে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার শীর্ষ কর্মকর্তারা বৈঠক করেন। সংঘর্ষ পুনরায় শুরুর পর এটিই ছিল দুই দেশের প্রথম সরাসরি বৈঠক।
বৈঠক শেষে থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সিহাসাক ফুয়াংকেটকিও বলেন, জুলাইয়ের যুদ্ধবিরতিটি তাড়াহুড়ো করে করা হয়েছিল। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইছিল ট্রাম্পের সফরের আগেই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা স্বাক্ষরিত হোক। তার মতে, টেকসই যুদ্ধবিরতির জন্য বাস্তব পরিস্থিতি অনুযায়ী শান্তভাবে আলোচনা করা প্রয়োজন।
সিহাসাক জানান, ২৪ ডিসেম্বর থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি বৈঠক হবে। সামরিক পর্যায়ের এই আলোচনা ছাড়া কোনো কার্যকর যুদ্ধবিরতি সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি কম্বোডিয়া।
চলতি মাসে নতুন করে সংঘর্ষ শুরুর পর এখন পর্যন্ত অন্তত ৪১ জন নিহত হয়েছে এবং প্রায় ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। প্রায় ৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তজুড়ে গোলাবর্ষণ চলছে। থাইল্যান্ড এরই মধ্যে কম্বোডিয়ার অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলাও চালিয়েছে।
আসিয়ান সম্মেলনে মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ হাসান বলেন, এই পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে সাধারণ মানুষের ওপর এর মারাত্মক প্রভাব পড়বে বলে তিনি সতর্ক করেন।
১৯৬৭ সালে আসিয়ান প্রতিষ্ঠার পর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে এটি সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘাত বলে মনে করা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা সংস্থাটির বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য বড় আঘাত বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
সংঘাত নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনও মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে। চীনের এশীয় বিষয়ক বিশেষ দূত দেং শিউন সম্প্রতি কম্বোডিয়ার রাজধানী নমপেনে সফর করেছেন। বেইজিং জানিয়েছে, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে সংলাপ এগিয়ে নিতে চীন গঠনমূলক ভূমিকা রাখবে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলমান মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার বিস্তারিত তথ্য সময়মতো প্রকাশ করা হবে।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/