দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

গাজা সিটিতে টানা ভারি বৃষ্টিতে অস্থায়ী ক্যাম্পগুলো প্লাবিত হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা। জাতিসংঘ জানিয়েছে, ইসরায়েলের নিষেধাজ্ঞার কারণে ত্রাণ প্রবেশে বাধা তৈরি হওয়ায় লাখো মানুষ যথাযথ আশ্রয় ছাড়াই শীতের মুখোমুখি হচ্ছেন।
বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি আব্দুর রহমান আসালিয়া আল জাজিরাকে বলেন, বৃষ্টির পানিতে তাদের বিছানা, কাপড় ও সব জিনিসপত্র ভিজে গেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা সাহায্য চাই। অন্তত এমন নতুন তাঁবু চাই যা শীতের সময় ঠান্ডা থেকে বাঁচাতে পারে।’ তিনি জানান, পানি সরাতে ২০ জনের মতো মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা চেষ্টা করেও খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি।
তার ভাষায়, ‘বৃষ্টি আল্লাহর রহমত, কিন্তু এখন অনেক পরিবার চায় না বৃষ্টি হোক—কারণ এতে তাদের শিশুরা ঝুঁকিতে পড়ে।’
গাজার সিভিল ডিফেন্স বলেছে, শুক্রবারের বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উত্তর গাজার পরিবারগুলো—যেখানে গত মাসের যুদ্ধবিরতির পর শত শত মানুষ ঘরে ফেরার চেষ্টা করছিল। কেন্দ্রীয় গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকাতেও বন্যার খবর পাওয়া গেছে।
সংস্থাটি বলছে, দুই বছরের যুদ্ধে যাদের ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে, তাদের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা এখন সবচেয়ে জরুরি। এক বিবৃতিতে তারা বলে, ‘শীতের শুরুতেই বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর জন্য জরুরি ভিত্তিতে ঘর, ক্যারাভ্যান ও তাঁবু পৌঁছে দিতে হবে।’
যুদ্ধবিরতির পর কিছু সহায়তা গাজায় ঢুকলেও খাদ্য, ওষুধ থেকে শুরু করে আশ্রয়—সব ক্ষেত্রেই ঘাটতি রয়ে গেছে। মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, শীতের আগে প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার ফিলিস্তিনি পরিবার—অর্থাৎ প্রায় দেড় মিলিয়ন মানুষ—ঝুঁকির মধ্যে আছে। জাতিসংঘের সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ জানিয়েছে, তারা সর্বোচ্চ ১৩ লাখ মানুষকে আশ্রয় সহায়তা দিতে সক্ষম, কিন্তু ইসরায়েল এখনো ত্রাণ ঢোকায় বাধা দিচ্ছে।
নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলের আঞ্চলিক পরিচালক অ্যাঞ্জেলিতা কারেদা বলেন, ‘শীতের ঠান্ডা ও বৃষ্টি থেকে পরিবারগুলোকে রক্ষার সময় খুবই কম।’
দেইর আল-বালাহ থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, মাত্র ৩০ মিনিটের বৃষ্টিতেই ক্যাম্প তলিয়ে যায়। ‘তাঁবুগুলো খুবই দুর্বল ও পুরনো। মানুষ এগুলো দুই বছর ধরে ব্যবহার করছে,’ বলেন প্রতিবেদক।
তিনি আরও জানান, অনেকের কাছে শীতের কাপড় নেই, নেই কম্বল। শিশুরা খালি পায়ে ঘুরছে। তার ওপর সীমিত পরিমাণ ত্রাণও নানা বাধায় আটকে যাচ্ছে।
গাজা সিটিতে বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত আরেক বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি আবু ঘাসসান বলেন, ‘আমাদের আর স্বাভাবিক জীবন নেই।’ তিনি বলেন, ‘বাচ্চারা যেন ভিজে না যায় তাই গদি তুলে রাখতে হয়। কিন্তু ছোটরা ততক্ষণে ভিজে গেছে। আমাদের ঠিকমতো তাঁবুও নেই।’
সূত্র: আল জাজিরা
এমএস/