দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ায় উদ্বেগ বাড়তে থাকায় কফি, গরুর মাংস, কলা, কমলার রসসহ ২০০টির বেশি খাদ্যপণ্যের ওপর আরোপিত শুল্ক প্রত্যাহার করেছেন। বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে কার্যকর হওয়া এই শুল্কছাড়কে ট্রাম্পের আগের অবস্থান থেকে বড় ধরনের নীতি পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এ বছর আরোপিত আমদানি শুল্ক মূল্যস্ফীতি বাড়াচ্ছে—এ অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে নাকচ করে আসছিলেন ট্রাম্প। তবে শুক্রবার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, কিছু ক্ষেত্রে শুল্ক ‘দাম বাড়াতে পারে’। যদিও তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রে এখন ‘প্রায় কোনো মূল্যস্ফীতি নেই’।
সম্প্রতি ভার্জিনিয়া, নিউ জার্সি ও নিউইয়র্কে স্থানীয় নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের পরপর জয়ে বাড়তি খাদ্যদামের বিষয়টি প্রধান আলোচনায় উঠে আসে।
ট্রাম্প জানান, আগামী বছর নিম্ন ও মধ্য-আয়ের নাগরিকদের জন্য ২ হাজার ডলারের সহায়তা দেওয়া হবে, যার অর্থ আসবে শুল্ক রাজস্ব থেকে। এ ছাড়া আর্জেন্টিনা, ইকুয়েডর, গুয়াতেমালা ও এল সালভাদরের সঙ্গে নতুন বাণিজ্যচুক্তির অংশ হিসেবে এসব দেশের কিছু খাদ্য ও আমদানি পণ্যের শুল্কও বাতিল করা হচ্ছে।
শুক্রবার প্রকাশিত তালিকায় রয়েছে এমন সব পণ্য, যেগুলো মার্কিন পরিবারগুলো নিয়মিত কেনে এবং যেগুলোর দাম গত এক বছরে দু’অঙ্কের হারে বেড়েছে। যেমন কমলা, অ্যাসাই বেরি, কোকো, খাদ্য উৎপাদনে ব্যবহৃত রাসায়নিক, সার, এমনকি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত ওয়েফারও।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এসব পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন বা প্রক্রিয়াজাত না হওয়ায় এবং বেশ কয়েকটি বাণিজ্যচুক্তি সম্পন্ন হওয়ায় এগুলোকে শুল্কমুক্ত করা হয়েছে।
গরুর মাংসের দাম যুক্তরাষ্ট্রে গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৩ শতাংশ বেড়েছে। স্টেকের দাম বেড়েছে ১৭ শতাংশ, যা তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। দেশের গবাদিপশুর সংকটে দীর্ঘদিন ধরেই গরুর মাংসের দাম বাড়তি। কলার দাম বেড়েছে ৭ শতাংশ, টমেটোর ১ শতাংশ। গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়িতে ব্যবহারের খাদ্যের দাম গড়ে ২.৭ শতাংশ বেশি ছিল।
শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে বেশ কয়েকটি শিল্পসংগঠন। ফুড ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন বলেছে, কফির দাম কমায় ভোক্তারা উপকৃত হবেন। তবে ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যের তৈরি মদপানীয় শুল্কছাড়ের বাইরে থাকায় আতিথেয়তা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো অসন্তোষ জানিয়েছে।
আরও শুল্ক পরিবর্তন হবে কি না, এ প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করি দরকার হবে না। আমরা শুধু সামান্য শুল্ক কমিয়েছি।’
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ট্রাম্প জোর দিয়ে আসছেন যে খাদ্যদ্রব্যসহ নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির জন্য তার নীতি নয়, বরং আগের প্রশাসনের সিদ্ধান্তগুলোই দায়ী। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, আমদানি শুল্কের প্রভাবেই খাদ্যের দাম বেড়েছে এবং আগামী বছর এ খাত আরও ব্যয়বহুল হতে পারে।
মার্কিন কংগ্রেসের ওয়েজ অ্যান্ড মিনস কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট রিচার্ড নিল বলেন, ‘সরকার নিজেরাই যেই আগুন লাগিয়েছে, এখন সেটাই নেভানোর চেষ্টা করছে।’ তিনি বলেন, ‘শুল্ক আরোপের পর থেকেই মুদ্রাস্ফীতি বেড়েছে, আর উৎপাদন খাত টানা কয়েক মাস ধরে সংকুচিত হচ্ছে।’
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/