দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

আফগানিস্তানের ১০টির মধ্যে ৯টি পরিবার বর্তমানে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছে বা টিকে থাকার জন্য ঋণ নিচ্ছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)। দেশটিতে নতুন করে ফেরত আসা লাখো মানুষের কারণে পূর্ব ও উত্তরাঞ্চলের দারিদ্র্যপীড়িত এলাকাগুলোতে ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে।
২০২৩ সাল থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪৫ লাখ আফগান নিজ দেশে ফিরেছেন, যার মধ্যে ১৫ লাখ মানুষকে চলতি বছর পাকিস্তান ও ইরান থেকে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তীব্র অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে তারা।
বুধবার প্রকাশিত ইউএনডিপি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেরত আসা পরিবারগুলোর অর্ধেকের বেশি খাদ্য জোগাতে গিয়ে চিকিৎসা বাদ দিচ্ছে, আর ৯০ শতাংশেরও বেশি ঋণে ডুবে আছে। গড়ে তাদের ঋণের পরিমাণ ৩৭৩ থেকে ৯০০ ডলারের মধ্যে, যেখানে মাসিক আয় মাত্র ১০০ ডলার।
আবাসনের সংকটও তীব্র হয়ে উঠেছে। বাড়িভাড়া তিনগুণ বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই থাকার জায়গা পাচ্ছেন না। অর্ধেকের বেশি পরিবার জানাচ্ছে, তাদের পর্যাপ্ত জায়গা বা বিছানাও নেই। পশ্চিম আফগানিস্তানের ইনজিল ও গুজারা জেলায় অধিকাংশ ফেরতপ্রাপ্ত মানুষ তাঁবু বা জরাজীর্ণ ঘরে বাস করছে।
ইউএনডিপি জরুরি ভিত্তিতে জীবিকা ও মৌলিক সেবা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটির আফগানিস্তান প্রতিনিধি স্টিফেন রদ্রিগেস বলেন, ‘যদি আয়, আবাসন ও মৌলিক সেবাকে একত্রে উন্নত করা যায়, তাহলে এসব এলাকায় চাপ কমানো সম্ভব হবে এবং মানুষকে দ্বিতীয়বার বাস্তুচ্যুত হওয়া থেকে রক্ষা করা যাবে।’
২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহারের পর যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানে মানবিক সহায়তা নাটকীয়ভাবে কমে গেছে। জাতিসংঘের ৩ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের তহবিল আহ্বানও দাতারা পূরণ করেনি।
চলতি বছরের ভূমিকম্পের পর তালেবান সরকার আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে এবং পাকিস্তানের শরণার্থী বহিষ্কারের নীতির বিরোধিতা করেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নারীদের কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে। আফগানিস্তানে বর্তমানে নারীদের শ্রমবাজারে অংশগ্রহণ ৬ শতাংশে নেমে এসেছে—যা বিশ্বের অন্যতম সর্বনিম্ন হার। নারী প্রধান পরিবারগুলো তাই চাকরি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ হারাচ্ছে।
জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব ও ইউএনডিপি’র এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের পরিচালক কানি উইগ্নারাজা বলেন, ‘অনেক প্রদেশে প্রতি চারটি পরিবারের একটি নারীর উপার্জনের ওপর নির্ভরশীল। নারীদের কাজ করতে না দিলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পরিবার, সমাজ এবং গোটা দেশ।’
তিনি আরও বলেন, ‘নারীদের মানবিক সেবার সামনের সারি থেকে সরিয়ে দেওয়া মানে সবচেয়ে অসহায় মানুষদের, বিশেষ করে ফেরতপ্রাপ্ত ও দুর্যোগপীড়িত জনগোষ্ঠীকে, সহায়তা থেকে বঞ্চিত করা।’
সূত্র: আল জাজিরা
এমএস/