দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইসরায়েলের দীর্ঘস্থায়ী সামরিক হামলায় বিধ্বস্ত গাজার মানুষ এখন মারাত্মক মানসিক আঘাত বা ট্রমার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয় মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকেই মানসিক রোগীদের সংখ্যা যেন ‘একটি আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণের মতো’ বেড়ে গেছে।
গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানায়, গত দুই বছরের তীব্র বোমা হামলা ও বারবার সামরিক অভিযানে ৬৮ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ব্যাপক গৃহহীনতা, ক্ষুধা ও অনিশ্চয়তা—যা ২৩ লাখ অধিবাসীর প্রত্যেকের জীবনে প্রভাব ফেলেছে।
গাজা সিটি মেন্টাল হেলথ হাসপাতালের প্রধান আবদাল্লাহ আল-জামাল বলেন, ‘যুদ্ধবিরতি শুরু হতেই মানসিক স্বাস্থ্যসেবার জন্য রোগীর ঢল নামে। আগে যে ভয় বা লজ্জা ছিল মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়া নিয়ে, সেটাও এখন আর নেই।’
তবে হাসপাতাল ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তিনি ও সহকর্মীরা কাছাকাছি একটি ছোট ক্লিনিক থেকে সীমিত সম্পদে চিকিৎসা দিচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের পর্যাপ্ত জায়গা নেই, তাই একই কক্ষে একাধিক রোগীকে দেখতে হয়—এটা রোগীদের প্রতি অসম্মানজনক, কিন্তু বিকল্প খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি।’ প্রতিদিন সেখানে শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন।
শিশুদের মধ্যে দেখা দিচ্ছে রাতের আতঙ্ক, বিছানায় মূত্রত্যাগ, মনোযোগ হারানোসহ নানা মানসিক সমস্যা। ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিভিন আবদেলহাদি বলেন, ‘গাজার শিশুরা এখন খাবার, পানি, আশ্রয় ও পোশাকের ঘাটতিতে ভুগছে।’ তিনি জানান, সংস্থাটি শিশুদের জন্য গল্প বলা ও খেলার মতো মানসিক প্রশমনমূলক কার্যক্রম চালাচ্ছে।
গত ১০ অক্টোবর কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি বড় ধরনের সংঘাত থামালেও মাঝেমধ্যে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ছে। এই যুদ্ধের সূত্রপাত হয়েছিল ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর, যখন হামাসের হামলায় ইসরায়েলে প্রায় ১,২০০ মানুষ নিহত হয়। এরপর শুরু হয় ইসরায়েলের বিধ্বংসী সামরিক অভিযান, যার মানসিক ক্ষত এখনো বয়ে বেড়াচ্ছে গাজার প্রতিটি মানুষ।
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/