দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েল এখন পর্যন্ত ১,৫০০টিরও বেশি ভবন ধ্বংস করেছে বলে উপগ্রহচিত্রের বিশ্লেষণে জানিয়েছে বিবিসি ভেরিফাই।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকাগুলোর বহু ভবন পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। ৮ নভেম্বর পর্যন্ত তোলা উপগ্রহচিত্রে দেখা যায়, এক মাসেরও কম সময়ে সম্পূর্ণ এলাকা সমতল করে ফেলা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ মনে করছেন, এই ধ্বংসযজ্ঞ যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘনের শামিল। তবে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, তারা যুদ্ধবিরতির কাঠামো অনুযায়ীই পদক্ষেপ নিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র, মিসর, কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির ভিত্তি ছিল সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনা। এতে বলা হয়েছিল, সব সামরিক অভিযান, বিমান ও গোলাবর্ষণ বন্ধ থাকবে।
বিবিসি ভেরিফাইয়ের উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, যুদ্ধবিরতির পরও ব্যাপকভাবে ভবন ধ্বংসের কাজ চলেছে। ‘ইয়েলো লাইন’ নামে পরিচিত সীমারেখার ভেতর—যে অংশে ইসরায়েলি বাহিনী অবস্থান করছে—সেখানেই সবচেয়ে বেশি ধ্বংসযজ্ঞ ঘটেছে।
চিত্রে দেখা যায়, খান ইউনুসের পূর্বাঞ্চল ও রাফাহের পূর্বে আল-বায়ুক এলাকায় এমন বহু ভবন ধ্বংস হয়েছে, যেগুলো আগে ক্ষতিগ্রস্ত ছিল না। ওই এলাকার বাসিন্দা লানা খালিল বলেন, ‘ইসরায়েলি সেনারা আমাদের কিছুই রাখেনি, সবকিছু ভেঙে দিয়েছে। আমরা এখন ধ্বংসস্তূপের পাশে তাঁবুতে থাকি।’
আইডিএফ তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করে জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী গাজায় সব সন্ত্রাসী অবকাঠামো, টানেল ও অস্ত্র তৈরির কেন্দ্র ধ্বংস করা হবে।
তবে সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধবিরতির সময় বেসামরিক সম্পত্তি ধ্বংস আন্তর্জাতিক আইনবিরোধী। রাটগার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অধ্যাপক আদিল হক বলেন, ‘যুদ্ধবিরতির সময় এমন ধ্বংসযজ্ঞ কোনোভাবেই প্রয়োজনীয় বলা যায় না।’
ইউরোপীয় পররাষ্ট্র পরিষদের সিনিয়র ফেলো হিউ লাভাট সতর্ক করেছেন, ইসরায়েল যদি ইয়েলো লাইনের পেছনে অবস্থান দীর্ঘায়িত করে, তাহলে পুরো শান্তি প্রক্রিয়াই ঝুঁকিতে পড়বে।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/