দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বেলজিয়ামের আকাশসীমায় সন্দেহভাজন রুশ ড্রোন অনুপ্রবেশের ঘটনায় দেশটির নিরাপত্তায় সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাজ্য। রোববার ব্রিটেনের সেনাপ্রধান স্যার রিচার্ড নাইটন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নাইটন জানান, গত সপ্তাহে বেলজিয়ান সেনাবাহিনী সহায়তা চেয়ে অনুরোধ করেছিল। এরপর থেকেই যুক্তরাজ্যের সরঞ্জাম ও সেনা সদস্য পাঠানো হচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার রাতে ব্রাসেলসের জাভেনটেম বিমানবন্দরের কাছাকাছি এলাকায় ড্রোন দেখা গেলে সাময়িকভাবে বিমানবন্দর বন্ধ করে দেওয়া হয়। একই সময় আশপাশের আরও কয়েকটি স্থানে, এমনকি একটি সামরিক ঘাঁটির কাছেও ড্রোন দেখা যায়।
নাইটন বলেন, এই ড্রোনগুলো রাশিয়া পাঠিয়েছে কিনা তা নিশ্চিত নয়, তবে মস্কোর নির্দেশে পরিচালিত হওয়া ‘সম্ভাব্য’। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জন হিলি বলেন, ‘যখন হাইব্রিড হুমকি বাড়ছে, তখন আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো জোটবদ্ধ থাকা এবং একসঙ্গে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও আকাশসীমা রক্ষা করা।’
বিবিসির তথ্যমতে, রয়্যাল এয়ার ফোর্সের ২ ফোর্স প্রোটেকশন উইংয়ের সদস্যরা এই অভিযানে অংশ নিতে পারেন। ন্যাটো মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় করে যুক্তরাজ্য বেলজিয়ামকে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবে বলে জানান নাইটন।
এর আগে জার্মান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও ড্রোনবিরোধী ব্যবস্থা নিতে বেলজিয়ামকে সহায়তার ঘোষণা দেয়।
ড্রোন ঘটনার কারণে ব্রাসেলস এয়ারলাইন্সের প্রায় তিন হাজার যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, এবং সংস্থাটি জানিয়েছে যে ফ্লাইট বাতিল ও ঘুরিয়ে দেওয়ায় তাদের বড় অঙ্কের ক্ষতি হয়েছে।
যদিও জার্মান প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বরিস পিস্তোরিয়াস ও বেলজিয়ান নিরাপত্তা সংস্থা রাশিয়ার সংশ্লিষ্টতার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, বেলজিয়ামের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী থিও ফ্রাঙ্কেন জানিয়েছেন, এখনো পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, ‘প্রথমে আমরা ভাবছিলাম সামরিক ঘাঁটির ওপর উড়ে যাওয়া ড্রোনগুলো কেবল আমাদের অভ্যন্তরীণ সমস্যা। কিন্তু এখন এটি ইউরোপের বহু দেশের বেসামরিক অবকাঠামোর জন্যও বড় হুমকি হয়ে উঠেছে।’
স্যার রিচার্ড নাইটন বলেন, ‘বর্তমানে ইউরোপের সবচেয়ে বড় হুমকি রাশিয়া। ইউক্রেনে তাদের অবৈধ আগ্রাসন যুদ্ধের নির্মমতা স্পষ্ট করে তুলেছে।’ তিনি আরও জানান, যুক্তরাজ্যে রাশিয়ার নাশকতা ও হত্যার ঘটনা ঘটেছে এবং এ ধরনের হাইব্রিড যুদ্ধের মোকাবিলায় দেশটিকে আরও শক্তিশালী হতে হবে।
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা খাতের ছায়ামন্ত্রী জেমস কার্টলিজ এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘বর্তমানে হুমকির মাত্রা বেড়েছে, তাই ন্যাটোর মাধ্যমে অন্যান্য দেশের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা জরুরি।’ তবে তিনি সরকারের প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধিতে ধীরগতির সমালোচনা করেন।
যুক্তরাজ্য ঘোষণা করেছে, ২০২৭ সালের এপ্রিল থেকে প্রতিরক্ষা ব্যয় জিডিপির ২.৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে এবং পরবর্তী মেয়াদে তা ৩ শতাংশে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।
ইউরোপের বিভিন্ন দেশে—বিশেষ করে সুইডেন, নরওয়ে ও ডেনমার্কে—সাম্প্রতিক মাসগুলোতে একাধিক ড্রোন অনুপ্রবেশের ঘটনায় বিমান চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে। যদিও রাশিয়া এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে।
পিস্তোরিয়াস জানিয়েছেন, এসব ঘটনার পেছনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত—রাশিয়ার জব্দ করা সম্পদ ইউক্রেনের সহায়তায় ব্যবহার করার আলোচনাও কারণ হতে পারে।
এদিকে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়ার যুদ্ধবিমান ও আক্রমণাত্মক ড্রোন পূর্ব ইউরোপের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে। এরই প্রেক্ষিতে ন্যাটোর পূর্ব সীমান্তে প্রতিরক্ষা জোরদারে যুক্তরাজ্য সম্প্রতি পোল্যান্ডে আরএএফ টাইফুন যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে।
সূত্র- বিবিসি
এমএস/