দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ শরাআ যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি সফরে ওয়াশিংটনে পৌঁছেছেন। যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক ‘বিশ্বব্যাপী বিশেষভাবে চিহ্নিত সন্ত্রাসী’ তালিকা থেকে তার নাম বাদ দেওয়ার দুই দিন পরই এই সফর শুরু হলো।
আগামী সোমবার হোয়াইট হাউসে তার সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। প্রায় ১১ মাস আগে শরাআর নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী জোট বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করে সিরিয়ার নিয়ন্ত্রণ নেয়।
শরাআর ওয়াশিংটনে পৌঁছানোর ঘণ্টা কয়েক আগে সিরিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী তথাকথিত ইসলামিক স্টেট (আইএস) সংগঠনের সন্দেহভাজন সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ৭১ জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানায়। ওই অভিযানে অস্ত্র ও বিস্ফোরকও উদ্ধার করা হয়। সিরিয়ায় আইএস-এর অবশিষ্ট উপস্থিতি দমন করায় যুক্তরাষ্ট্র ও সিরিয়ার যৌথ প্রচেষ্টা শরাআ–ট্রাম্প বৈঠকের প্রধান আলোচ্য বিষয় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ক্ষমতায় আসার পর থেকে শরাআ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সিরিয়ার অবস্থান পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করে যাচ্ছেন। আসাদ সরকারের দীর্ঘ একনায়কতন্ত্র ও ১৩ বছরের গৃহযুদ্ধ শেষে তিনি দেশটিকে ‘পুনর্জন্মের পথে’ নিয়ে যেতে চান।
গত সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে তিনি প্রথমবার যুক্তরাষ্ট্র সফর করেন। সেখানে শরাআ বলেন, ‘সিরিয়া আবারও বিশ্বের জাতিগুলোর মাঝে তার যথাযথ স্থান ফিরে পাচ্ছে’, এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আহ্বান জানান।
এই সপ্তাহের শুরুতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়, যাতে সিরিয়ার ওপর থেকে বিভিন্ন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়। একই সময় ওয়াশিংটন ধাপে ধাপে সিরিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিলের প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখে।
গত শুক্রবার শরাআ ও তার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আনাস হাসান খাত্তাবকে যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসী অর্থায়নের অভিযোগে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তালিকা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ জানায়, ‘সিরীয় নেতৃত্বের ইতিবাচক অগ্রগতির স্বীকৃতিস্বরূপ’ এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে শরাআ ‘মুহাম্মদ আল-জাওলানি’ নামে পরিচিত ছিলেন, যিনি এক সময় আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট জঙ্গি সংগঠন ‘হায়াত তাহরির আল-শাম’ (এইচটিএস)-এর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ২০১৬ সালে তিনি সংগঠনটির আল-কায়েদার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন।
এইচটিএস-এর নেতৃত্বে আসার আগে শরাআ ইরাকে আল-কায়েদার হয়ে যুদ্ধ করেছিলেন এবং এক সময় যুক্তরাষ্ট্রের হাতে বন্দীও ছিলেন। তার মাথার দাম একসময় ১ কোটি মার্কিন ডলার ঘোষণা করা হয়েছিল।
এই বছরের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্র হায়াত তাহরির আল-শামের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়।
এর আগে চলতি বছরের মে মাসে সৌদি আরবের রিয়াদে এক সম্মেলনে ট্রাম্প শরাআর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাকে ‘একজন দৃঢ়চেতা মানুষ, যার অতীতও শক্তিশালী’ বলে মন্তব্য করেন।
অতীতের বিতর্কিত পরিচয় থাকা সত্ত্বেও শরাআ এখন এমন এক মধ্যপন্থী সরকার গঠনের অঙ্গীকার করেছেন, যা দেশের বিভিন্ন জাতিগত ও রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সমর্থন পেতে পারে।
সম্প্রতি সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে সুন্নি বেদুইন যোদ্ধা ও দ্রুজ মিলিশিয়াদের মধ্যে সংঘর্ষে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দেশটিতে স্থিতিশীলতা ফেরানোর শরাআ সরকারের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, যে দেশটি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞে বিধ্বস্ত।
সূত্র- বিবিসি
এমএস/