দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

দুর্বল প্রশাসনিক ও শাসন কাঠামোই বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের অন্যতম কারণ বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (এনএসএ) অজিত দোভাল।
তিনি বলেন, ‘দুর্বল শাসনব্যবস্থা অনেক সময় একটি দেশের সরকারের পতনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বাংলাদেশ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কাসহ দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশে অনানুষ্ঠানিক উপায়ে সরকার পরিবর্তনের পেছনেও এমন দুর্বল প্রশাসনিক কাঠামো কাজ করেছে।’
শুক্রবার রাষ্ট্রীয় ঐক্য দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর শাসনব্যবস্থা অপরিহার্য। এটি কেবল রাষ্ট্রের লক্ষ্য পূরণে সাহায্য করে না, বরং জনগণের আস্থা ও আকাঙ্ক্ষাও পূরণ করে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি শনিবার এক প্রতিবেদনে তার এই বক্তব্য প্রকাশ করে।
অজিত দোভাল বলেন, ‘আজকের প্রশাসনের বড় চ্যালেঞ্জ হলো সাধারণ মানুষকে সন্তুষ্ট রাখা। মানুষ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন, উচ্চাকাঙ্ক্ষী এবং রাষ্ট্রের কাছ থেকে বেশি প্রত্যাশা করে। তাই রাষ্ট্রেরও নাগরিক সন্তুষ্টির দিকে মনোযোগ দিতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘একটি জাতির প্রকৃত শক্তি নিহিত থাকে তার শাসনব্যবস্থায়। সরকার যখন প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে কাজ করে, তখন জাতি গঠনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন সেই ব্যক্তিরা, যারা এসব প্রতিষ্ঠান তৈরি ও লালন করেন।’
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শাসন মডেলের প্রশংসা করে দোভাল বলেন, ‘ভারত এখন এক নতুন কক্ষপথে প্রবেশ করছে— এক নতুন ধরনের শাসনব্যবস্থা, সমাজ কাঠামো এবং বৈশ্বিক অবস্থানে। দুর্নীতি দমনে বর্তমান সরকারের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারগুলো গভীর প্রভাব ফেলছে এবং ভবিষ্যতে আরও পদক্ষেপ আসতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘পরিবর্তনের সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো লক্ষ্য পরিষ্কার রাখা— যেন ভয় বা বিভ্রান্তিতে পথ হারাতে না হয়।’
দোভাল ভালো শাসনের মূল উপাদান হিসেবে নারীর সুরক্ষা, সমতা ও ক্ষমতায়নের ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, ‘নারীর ক্ষমতায়ন আধুনিক শাসনব্যবস্থার অপরিহার্য অংশ। শুধু আইন বা নীতিমালা থাকলেই হবে না, সেগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করাই মূল চ্যালেঞ্জ।’
এ ছাড়াও প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তি এমনভাবে কাজে লাগাতে হবে যাতে শাসনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও জনসেবার দক্ষতা বাড়ে। পাশাপাশি সাইবার হামলার মতো প্রযুক্তিনির্ভর হুমকি থেকেও সমাজকে সুরক্ষিত রাখতে হবে।’
এমএস/