দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সুদানের দারফুর অঞ্চলের এল-ফাশের শহর দখলের পর শতাধিক পুরুষকে ধরে নিয়ে গুলি করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে আধাসামরিক র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) বিরুদ্ধে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে এ খবর জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
আলখেইর ইসমাইল নামে এক ব্যক্তি জানান, উটের পিঠে চড়ে আসা যোদ্ধারা শতাধিক পুরুষকে ধরে নিয়ে একটি জলাধারের পাশে জড়ো করে বর্ণবাদী গালাগাল দিতে দিতে গুলি চালায়। তিনি বেঁচে যান কারণ বন্দিদের একজন তাকে স্কুলজীবন থেকে চিনতে পারেন এবং বাঁচিয়ে দেন। ইসমাইল বলেন, ‘ওরা সবাইকে মেরে ফেলেছে—আমার বন্ধুরা, সবাই।’
রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা আরও কয়েকজন সাক্ষী ও ছয়জন ত্রাণকর্মী জানান, এল-ফাশের থেকে পালানো মানুষদের পাশের গ্রামগুলোতে নিয়ে গিয়ে পুরুষদের আলাদা করা হয়, পরে গুলির শব্দ শোনা যায়। জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় জানিয়েছে, শত শত বেসামরিক ও নিরস্ত্র ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগ পেয়েছে তারা। এসব হত্যাকাণ্ড যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।
আরএসএফ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সংগঠনের এক শীর্ষ কমান্ডার বলেছেন, এসব ‘মিডিয়ার অতিরঞ্জন’ এবং সেনাবাহিনী নিজেদের পরাজয় ঢাকতে এমন তথ্য ছড়াচ্ছে। তিনি দাবি করেন, আরএসএফ কেবল জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কিছু সৈন্যকে আটক করেছে এবং বেসামরিকদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে সাহায্য করেছে।
রয়টার্স যাচাই করেছে, অন্তত তিনটি ভিডিওতে আরএসএফ সদস্যদের নিরস্ত্র মানুষকে গুলি করতে দেখা গেছে। আরও কয়েকটি ভিডিওতে গুলিবিদ্ধ মরদেহের স্তূপ দেখা গেছে।
আন্তর্জাতিক ত্রাণসংস্থা মেডসাঁ সঁ ফ্রঁতিয়ে (ডাক্তারস উইদাউট বর্ডার্স) জানিয়েছে, গত ২৬ অক্টোবর প্রায় ৫০০ বেসামরিক ও সেনাসদস্য পালানোর চেষ্টা করলে বেশিরভাগকেই আরএসএফ হত্যা বা আটক করে। জীবিতদের অনেককে মুক্তির বিনিময়ে ৫০ লাখ থেকে ৩ কোটি সুদানি পাউন্ড পর্যন্ত মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে।
আরএসএফ প্রধান মোহাম্মদ হামদান দাগালো এক ভাষণে বলেন, বেসামরিকদের সুরক্ষা দিতে হবে এবং যারা আইন ভঙ্গ করেছে, তাদের বিচার হবে। তিনি আটক ব্যক্তিদের মুক্তি দেওয়ার নির্দেশও দেন।
স্থানীয় সূত্র বলছে, এল-ফাশেরের প্রতিরোধ যোদ্ধাদের অধিকাংশই জাঘাওয়া জাতিগোষ্ঠীর, যাদের সঙ্গে আরব বংশোদ্ভূত আরএসএফ যোদ্ধাদের দীর্ঘদিনের শত্রুতা রয়েছে।
গণহত্যা বিশেষজ্ঞ অ্যালেক্স ডি ওয়াল বলেন, এল-ফাশেরে যা ঘটছে, তা আগের দারফুর যুদ্ধ ও জেনেইনা শহরের হত্যাযজ্ঞের পুনরাবৃত্তি। যুক্তরাষ্ট্র জেনেইনায় আরএসএফের কর্মকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, যা বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে তদন্তাধীন।
এদিকে সহিংসতা থেকে পালিয়ে আসা নারীরা জানিয়েছেন, আরএসএফ যোদ্ধারা তাদের তল্লাশি করে মারধর ও অপমান করেছে। তাহানি হাসান নামে এক নারী বলেন, ‘ওরা আমাদের কাপড় ছিঁড়ে মাটিতে ফেলেছে, খাবার ও পানি নষ্ট করেছে। পুরুষদের আলাদা করে নিয়ে গেছে—আমার ভাই ও ভাশুরদের আর দেখি না।’
তিনি আরও বলেন, ‘তারা যদি তোমাকে গুলি না করে, তাহলে ক্ষুধা বা তৃষ্ণায় মরতে হবে।’
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/