দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

গাজা উপত্যকায় নতুন করে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। একইদিনে ইসরায়েল ফেরত দিয়েছে ৩০ ফিলিস্তিনি বন্দির মরদেহ, যাদের অনেকের শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
আন্তর্জাতিক রেড ক্রসের মাধ্যমে শুক্রবার এই মরদেহগুলো গাজায় ফেরত দেওয়া হয়। সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইসরায়েলি বাহিনী গাজা সিটির শুজাইয়া এলাকা, জাবালিয়া শরণার্থী শিবির ও খান ইউনিসে হামলা চালায়। ওয়াফা সংবাদ সংস্থার বরাতে জানা যায়, গুলিতে একজন নিহত ও আরেকজন আহত হন; জাবালিয়ায় গোলাবর্ষণে আরও একজন মারা যান। এর বাইরে, আগের এক হামলায় আহত আরেক ব্যক্তি মারা গেছেন।
গাজার কেন্দ্রে বেসামরিক উদ্ধারকর্মীরা আবু মেদেইন পরিবারের ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও একজনের মৃতদেহ উদ্ধার করেছেন।
ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ফেরত আসা মরদেহগুলোর মধ্যে অনেকের হাত বাঁধা ও চোখ বাঁধা ছিল, কিছু দেহে পুড়ে যাওয়ার চিহ্ন, আবার কিছু দেহ বিকৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। এখন পর্যন্ত ইসরায়েল থেকে মোট ২২৫টি মরদেহ ফেরত এসেছে।
ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সম্পাদিত বন্দি-বিনিময় চুক্তির অংশ হিসেবে এই মরদেহগুলো ফেরত দেওয়া হচ্ছে। চুক্তি অনুযায়ী, হামাস তাদের হাতে থাকা ২৮ ইসরায়েলি বন্দির দেহ ফেরত দেবে এবং বিনিময়ে ইসরায়েল ফিলিস্তিনি বন্দিদের মরদেহ ফেরত দেবে।
গত কয়েক দিনে হামাস ১৭টি ইসরায়েলি বন্দির মরদেহ হস্তান্তর করেছে, যার মধ্যে বৃহস্পতিবারের তিনজনও রয়েছেন।
তবে যুদ্ধবিরতির পরও ইসরায়েলি হামলায় প্রাণহানি অব্যাহত রয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মঙ্গলবার থেকে বুধবার পর্যন্ত একদিনেই ১০৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, তাদের মধ্যে ৪৬ শিশু ও ২০ নারী।
এদিকে, রেড ক্রসের সহায়তায় হামাসের সশস্ত্র শাখা আল-কাসাম ব্রিগেডের সদস্যরা শুক্রবার খান ইউনিসের পূর্বাঞ্চলে গিয়ে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা ইসরায়েলি বন্দিদের দেহ অনুসন্ধান করেন।
যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও ইসরায়েল এখনো সীমান্ত খুলে দেয়নি এবং পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা প্রবেশে বাধা দিচ্ছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার কিছু ত্রাণ ট্রাক গাজায় ঢুকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই সীমিত।
গাজায় অবস্থানরত প্রতিবেদক তারেক আবু আজযুম বলেন, ‘মানুষ এখনো জাতিসংঘের গুদাম থেকে খাদ্য ও আশ্রয়ের জিনিসপত্র পেতে হিমশিম খাচ্ছে। যুদ্ধবিরতি মানে শুধু খাবার আনা নয়—মানুষের বেঁচে থাকার জন্য আশ্রয় ও ত্রাণের উপকরণও জরুরি।’
সূত্র: আল জাজিরা
এমএস/