দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গাজায় আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনী গঠনে ‘অনেক দেশ’ অংশ নিতে আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে তিনি বলেন, এতে অংশ নেওয়া দেশগুলো নিয়ে ইসরায়েলকে স্বস্তিতে থাকতে হবে।
ইসরায়েল সফরে থাকা অবস্থায় রুবিও বলেন, ‘আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী’ (আইএসএফ) গঠনের বিষয়ে আলোচনা চলছে এবং এটি যত দ্রুত সম্ভব কার্যকর করা হবে। তবে হামাসের সঙ্গে সমঝোতা ছাড়া এই বাহিনী মোতায়েন করা কতটা সম্ভব হবে, তা এখনো পরিষ্কার নয়।
রুবিও বলেন, ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধবিরতি শুরুর পর দুই সপ্তাহে ‘ঐতিহাসিক অগ্রগতি’ হয়েছে, যদিও সামনে ‘উত্থান-পতন’ আসতে পারে। তিনি বলেন, ‘এ পরিকল্পনার বিকল্প কোনো পথ নেই। এটাই সেরা ও একমাত্র পরিকল্পনা, এবং আমরা বিশ্বাস করি এটি সফল হতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে হবে যাতে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের মতো হামলা আর কখনও না ঘটে। গাজা এমন জায়গায় পরিণত হতে হবে যেখানে আর কেউ ইসরায়েল বা নিজেদের জনগণের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে না পারে।’
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে ইসরায়েলে হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়। এর পর ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ৬৮ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, যার হিসাব জাতিসংঘও নির্ভরযোগ্য হিসেবে স্বীকার করেছে।
রুবিও বলেন, ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী হামাসকে নিরস্ত্র করা হবে। ‘যদি হামাস নিরস্ত্র হতে অস্বীকৃতি জানায়, তবে তা চুক্তি ভঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে,’ তিনি বলেন। রুবিও আরও যোগ করেন, ‘হামাস ভবিষ্যতে গাজা শাসনে কোনোভাবেই অংশ নিতে পারবে না।’
রুবিওর এ সফর এমন সময় হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সসহ শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তারা এক সপ্তাহের মধ্যে ইসরায়েল সফর করেছেন। ওয়াশিংটনের লক্ষ্য হলো ট্রাম্পের গাজা শান্তি পরিকল্পনা সফল করা, যদিও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের কিছু পদক্ষেপ নিয়ে মার্কিন প্রশাসন উদ্বিগ্ন। ইসরায়েলি গণমাধ্যমে এ পরিস্থিতিকে রসিকভাবে বলা হচ্ছে ‘বিবি-সিটিং’, অর্থাৎ নেতানিয়াহুকে ‘তদারকি’ করা।
সম্প্রতি মার্কিন কর্মকর্তারা ইসরায়েলের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, বিশেষ করে গত সপ্তাহে হামাসকে দায়ী করে ইসরায়েল যে হামলা চালায় তাতে বহু বেসামরিক নিহত হয়। তাছাড়া, পশ্চিম তীর দখলের পক্ষে ইসরায়েলি সংসদে ভোট হওয়াও মার্কিন অসন্তোষ বাড়িয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি বিপন্ন হতে পারে—এমন কোনো ‘অপ্রত্যাশিত পদক্ষেপ’ তারা সহ্য করবেন না। এমনকি ইসরায়েলের যেকোনো সামরিক অভিযানের আগে আগাম জানানোরও দাবি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
তবে নেতানিয়াহু বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের হয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে—এমন ধারণা ভুল। তিনি সম্পর্কটিকে ‘সহযোগিতার অংশীদারিত্ব’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
তবে সবচেয়ে বড় মিত্র দেশের চাপের মুখে নেতানিয়াহুর সরকার কঠিন অবস্থায় পড়েছে। গাজা যুদ্ধকে দেশের অভ্যন্তরে ‘বিজয়’ হিসেবে উপস্থাপনের কৌশল এখন হুমকির মুখে, যা ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে তার রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
রুবিও ও ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স দুজনই প্রকাশ্যে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে যুদ্ধবিরতি টিকে থাকবে। তবে তারা স্বীকার করেছেন, অবশিষ্ট ইস্যুগুলো—যেমন ইসরায়েলের সেনা প্রত্যাহারের পরিধি, গাজার ভবিষ্যৎ শাসন কাঠামো, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং আইএসএফ গঠন—নিয়ে আলোচনা দীর্ঘ ও কঠিন হবে।
রুবিও বলেন, ‘অনেক দেশ আইএসএফ-এ অংশ নিতে আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে এতে এমন দেশগুলোকেই অন্তর্ভুক্ত করা হবে, যাদের উপস্থিতিতে ইসরায়েল স্বস্তি বোধ করবে।’ পর্যবেক্ষকদের মতে, তিনি সম্ভবত তুরস্কের অংশগ্রহণ নিয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন, যাকে ইসরায়েল ইতিমধ্যে আপত্তি জানিয়েছে।
আইএসএফের সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব এখনো স্পষ্ট নয়। অনেক দেশ আশঙ্কা করছে, হামাসের সঙ্গে চুক্তি না হলে তাদের সেনারা গাজায় হামাস যোদ্ধাদের মুখোমুখি হতে পারে।
রুবিও শেষ পর্যন্ত বলেন, ‘এই শান্তি পরিকল্পনার পথ সহজ হবে না। বাধা আসবে, সময় লাগবে, কিন্তু আমাদের এটি সফল করতেই হবে।’
সূত্র: বিবিসি
এমএস/