দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

চীনের একটি আদালত মিয়ানমারে প্রতারণা কেন্দ্র চালানো কুখ্যাত ‘মিং পরিবার’-এর ১১ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় শহর ওয়েনঝৌতে এই রায় ঘোষণা করা হয়।
চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, মোট ৩৯ জন মিং পরিবারের সদস্যকে সাজা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১১ জনকে মৃত্যুদণ্ড, পাঁচজনকে স্থগিত মৃত্যুদণ্ড (দুই বছরের জন্য), ১১ জনকে যাবজ্জীবন এবং বাকিদের পাঁচ থেকে ২৪ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আদালত জানিয়েছে, ২০১৫ সাল থেকে মিং পরিবার টেলিযোগাযোগ প্রতারণা, জুয়া, মাদক পাচার ও দেহব্যবসাসহ নানা অপরাধমূলক কাজে জড়িত ছিল। শুধু জুয়া ও প্রতারণার মাধ্যমেই তারা ১০০০ কোটি ইউয়ানের (প্রায় ১.৪ বিলিয়ন ডলার) বেশি অর্থ উপার্জন করেছে।
মিয়ানমারের শান রাজ্যের লাউকাই এলাকায় চারটি বড় পরিবার দীর্ঘদিন ধরে জুয়া ও প্রতারণার কেন্দ্র চালাত। তাদের মধ্যে মিং পরিবার সবচেয়ে প্রভাবশালী ছিল। সেখানে অন্তত ১০ হাজার মানুষকে জোরপূর্বক প্রতারণা কেন্দ্রে কাজ করানো হতো। সবচেয়ে কুখ্যাত ছিল ‘ক্রাউচিং টাইগার ভিলা’ নামের একটি কম্পাউন্ড, যেখানে শ্রমিকদের নিয়মিত মারধর ও নির্যাতন করা হতো।
২০২৩ সালে মিয়ানমার সরকার এই পরিবারগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে অনেককে গ্রেপ্তার করে চীনের হাতে তুলে দেয়। পারিবারিক প্রধান মিং শুয়েচ্যাং আত্মহত্যা করেন বলে জানা গেছে।
জাতিসংঘ এই প্রতারণা শিল্পকে ‘স্ক্যামডেমিক’ নামে আখ্যায়িত করেছে, যেখানে লাখো বিদেশি, বিশেষত চীনা নাগরিকদের আটক রেখে অনলাইন প্রতারণায় বাধ্য করা হয়েছে।
চীনের আদালতের এই কঠোর রায়কে সীমান্ত অঞ্চলের প্রতারণা ব্যবসা দমন করার দৃঢ় বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মিয়ানমারে ধাক্কা খাওয়ার পর এখন এই প্রতারণা ব্যবসার বড় অংশই কম্বোডিয়ায় চলে গেছে।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/