দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইরানের আকাশে গর্জন তুলতে পৌঁছেছে রাশিয়ান যুদ্ধবিমান। তীব্র আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, শত্রুপক্ষের নজরদারি আর একের পর এক ইসরায়েলি হামলার পরও, রাশিয়ান মিগ-২৯ যুদ্ধবিমানের আগমনে, এক নতুন শক্তির আবির্ভাব ঘটতে যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে। তবে বিশ্লেষকদের মতে এগুলো শুধুই যুদ্ধবিমান নয়। এটি একটি উত্তপ্ত বার্তা, যা সরাসরি তেলআবিবের কানে গিয়ে বাজছে।
ইরানি গণমাধ্যম ইরান ইন্টান্যাশনাল জানিয়েছে, শিরাজের আকাশে ইতোমধ্যেই দেখা মিলেছে, রাশিয়ার তৈরি চতুর্থ প্রজন্মের মিগ-২৯এস ফাইটার জেট। দেশটির সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির সদস্য আবুলফজল জোহরেভান্দ জানিয়েছেন, এটি আপাতত স্বল্পমেয়াদী একটি সমাধান। কেননা মূল চমক এখনও বাকি রয়েছে। কারণ তিনি জানিয়েছেন রাশিয়ার তৈরি সু-৩৫ যুদ্ধবিমানও ধীরে ধীরে পৌঁছাবে তেহরানে। সেই সাথে আসছে চীনের এইচকিউ-নাইন আর রাশিয়ার এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও। অর্থাৎ ইরান এবার শুধু আক্রমণেই মনোযোগ দিচ্ছে না, দেশটির প্রতিরক্ষাও হবে পাথরের মতো কঠিন।
এখন অনেকের মনেই প্রশ্ন সোভিয়েত আমলে তৈরি মিগ-২৯ যুদ্ববিমান বর্তমান যুগের আকাশ যুদ্ধে, ঠিক কতটা কার্যকরি। এই প্রসঙ্গে বলতেই হয়, রাশিয়ার তৈরি মিগ-২৯ এস কোনো খেলনা বিমান নয়। বর্তমানেও এই যুদ্ধবিমান ২ হাজার ৪০০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টার গতি তুলতে সক্ষম। এছাড়া এটি স্টেল্থ ফাইটার না হলেও, রাডার এড়িয়ে শত্রুপক্ষের লক্ষবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। আর অস্ত্রবহনের ক্ষেত্রেও এটি আধুনিক সব যুদ্ধাস্ত্র নিয়েই উড়তে পারে।
মিগ-২৯ এস যুদ্ধবিমানটির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়টি হচ্ছে, এটি বহু বছর ধরে বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্রে পরীক্ষিত একটি ফাইটার জেট। যেটি আজও বিশ্বের বহু দেশেই সম্মানিত। যদিও এটি সু-৩৫ এর মতো উন্নত নয়, তবে ইরানের জীর্ণশীর্ণ ১৯৭৯ এর আগের মার্কিন ফ্লিটের পাশে, একটি যুগান্তকারী যুদ্ধবিমানই বটে।
যুদ্ধকালীন সময় এই মিগ-২৯ এস যুদ্ধবিমান এক জ্বালানিতে ৭০০ কিলোমিটারের দুরত্ব পাড়ি দিতে পারে। তবে অতিরিক্ত ফুয়েল ট্যাঙ্ক বহন করলে এটি আরও, এক হাজার ৫০০ কিলোমিটার পাড়ি দিতে সক্ষম। এছাড়া এই যুদ্ধবিমানে রয়েছে ছয়টি হার্ডপয়েন্ট, যা একাধিক অস্ত্র বহন করতে সক্ষম।
এদিকে ইসরায়েল একের পর এক হামলা চালিয়ে ইরানের এয়ার ডিফেন্স ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছিলো। সেই পরিস্থিতি থেকে উত্তরনেই, ইরানে এখন পাল্টা শক্তির উত্থান দেখা দিচ্ছে। ইরানের এস-৩০০ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস হলেও, এবার তেহরান নতুন করে পেতে যাচ্ছে রাশিয়ার এস-৪০০, যা কিনা পৃথিবীর অন্যতম সেরা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি। এছাড়া চীনের এইচকিউ-৯, যা ভয়ানক এক মিসাইল সিস্টেম, এটিও খুব জলদিই মোতায়েন করবে ইরান। ফলে দেশটির সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আগামীতে প্রতিরোধ হবে পূর্বের চেয়ে অনেক বেশি ভয়ংকর।
ইরানের বহরে সদ্য যুক্ত হওয়া, মিগ-২৯এস, দেশটির চিরশত্রু ইসরায়েলের জন্যে বর্তমানে মাথা ব্যথার কারণ না হলেও, এই যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি যখন রাশিয়ার সু-৩৫ পুরোপুরি ইরানের নিয়ন্ত্রণে আসবে, তখন আকাশে আধিপত্ব্যের ভারসাম্য পাল্টাতে শুরু করবে।
কারণ রাশিয়ার তৈরি সু-৩৫ যুদ্ধবিমান শুধু গতির জন্যে নয়, বরং এটির রাডার সিস্টেম, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার প্রযুক্তি, এবং আকাশে দীর্ঘ সময় অবস্থান করার ক্ষমতা, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের আকাশযুদ্ধের সক্ষমতাকে আরও বৃদ্ধি করবে। এছাড়া ইসরায়েলের এফ-৩৫ আদির বর্তমানে এগিয়ে থাকলেও, ইরানের আকাশে সু-৩৫ এর উপস্থিতি, তেলআবিবের যখন তখন আক্রমণের ক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনবে।
সবশেষ একাধিক সমরবিদদের ধরণা রাশিয়া ও চীনের সহযোগিতায়, ইরান এখন কেবল প্রতিরক্ষায় নয়, আক্রমণেও ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে।
কে