দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত বৈশ্বিক ফোরামে এক সময়কার শত্রু এখন এক মঞ্চে বসে চমক সৃষ্টি করেছেন। সিরিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা ও তাকে একসময় গ্রেপ্তার করা মার্কিন অবসরপ্রাপ্ত চার তারকা জেনারেল ডেভিড পেট্রাউস সোমবার অংশ নেন কনকর্ডিয়া অ্যানুয়াল সামিটে।
গত বছর ডিসেম্বরের অভ্যুত্থানে আসাদ পরিবারের দীর্ঘ ৫০ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় আসেন বিদ্রোহী নেতা আল-শারা। এরপর জানুয়ারিতে তিনি সিরিয়ার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন। তবে তার অতীত ভিন্ন গল্প বলে।
২০০৬ সালে ইরাকে মার্কিন অভিযানের সময় মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করায় পেট্রাউসের নেতৃত্বাধীন সেনারা তাকে গ্রেপ্তার করে পাঁচ বছরের জন্য কারাগারে পাঠায়। মুক্তির পর তিনি আল-নুসরা ফ্রন্ট গঠন করেন, যা পরে হায়াত তাহরির আল-শামে (এইচটিএস) রূপ নেয়। একসময় আল–কায়েদার সঙ্গে সম্পর্ক থাকার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র তাকে ‘সন্ত্রাসী’ ঘোষণা করে মাথার দাম এক কোটি ডলার নির্ধারণ করেছিল। তবে চলতি বছরের জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র সেই ঘোষণা প্রত্যাহার করে নেয়।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সফরে আসেন আল-শারা। প্রায় ছয় দশকের মধ্যে এই প্রথম কোনো সিরীয় রাষ্ট্রপ্রধান সাধারণ পরিষদে অংশ নিলেন। সফরকালে তিনি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গেও বৈঠক করেন।
কনকর্ডিয়া সম্মেলনে মঞ্চ ভাগ করে নেওয়ার সময় সাবেক শত্রুর নেতৃত্বের প্রশংসা করেন জেনারেল পেট্রাউস। তিনি বলেন, বিদ্রোহী নেতা থেকে রাষ্ট্রপ্রধান হয়ে ওঠা মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ইতিহাসে অন্যতম নাটকীয় রাজনৈতিক পরিবর্তন। এমনকি তিনি নিজেকে এখন আল-শারার ভক্ত বলেও দাবি করেন।
অন্যদিকে, আল-শারা বলেন, অতীতের ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়েছেন তিনি। তার মূল লক্ষ্য সিরীয় জনগণকে অস্থিতিশীলতা থেকে মুক্ত করা এবং দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা। এজন্য তিনি অক্টোবরে জাতীয় নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন।
এক সময়কার শত্রুর সঙ্গে একই মঞ্চে বসা প্রসঙ্গে আল-শারা বলেন, “একসময় আমরা যুদ্ধ করেছি, এখন সংলাপ করছি। অতীতকে বর্তমানের মানদণ্ডে বিচার করা যায় না।” তার মতে, যুদ্ধের অভিজ্ঞতা মানুষকে শান্তির গুরুত্ব বুঝতে শেখায়।
সূত্র: আল জাজিরা
এমএস/