দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কাতারের রাজধানী দোহায় একত্রিত হয়েছিলেন আরব লীগ ও ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) নেতারা। লক্ষ্য ছিল—গত সপ্তাহে হামাস নেতাদের বৈঠকে ইসরায়েলের হামলার পর কাতারের পাশে দাঁড়ানো।
সম্মেলন শেষে নেতারা ইসরায়েলবিরোধী একটি দীর্ঘ বিবৃতি দিলেন এবং কাতারের প্রতি সংহতি জানালেন। কিন্তু বাস্তব কোনো পদক্ষেপের ঘোষণা আসেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ঘটনা দেখিয়ে দিলো, বিপুল সম্পদ থাকা সত্ত্বেও আরব দেশগুলো ইসরায়েল কিংবা তার প্রধান মিত্র যুক্তরাষ্ট্রকে চাপে ফেলতে পারছে না। অথচ ১৯৭৩ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় সৌদি আরবসহ তেল উৎপাদনকারী আরব দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলপন্থী দেশগুলোর ওপর তেল রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা দিয়ে পশ্চিমা অর্থনীতিকে মন্দার দিকে ঠেলে দিয়েছিল। সেই পদক্ষেপ যুদ্ধবিরতি ত্বরান্বিত করেছিল।
কিন্তু আজ গাজায় মৃত্যুর সংখ্যা যখন প্রায় ৬৫ হাজারে পৌঁছেছে—যার বেশিরভাগ নারী ও শিশু—এমনকি জাতিসংঘ কমিশন যখন ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ তুলছে, তখনও আরব নেতারা নীরব দর্শকের মতো আচরণ করছেন।
বেইরুট আমেরিকান ইউনিভার্সিটির বিশ্লেষক রামি খুরি বলেন, ‘গত শতাব্দীতে আরব সরকারগুলো পূর্ণ সার্বভৌমত্ব অর্জন করতে পারেনি। তারা বিদেশি শক্তির ওপর নির্ভরশীল—নিজেদের টিকে থাকা, সুরক্ষা আর উন্নতির জন্য।’
এমনকি এই নির্ভরশীলতাও নিরাপত্তা দেয়নি। উদাহরণ হিসেবে কাতারকে ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্র ‘প্রধান নন-ন্যাটো মিত্র’ হিসেবে ঘোষণা করেছিল। দেশটিতেই রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় বিমানঘাঁটি।
দোহা সম্মেলনে গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের মহাসচিব জাসেম মোহাম্মদ আল-বুদাইউই বলেন, ‘আমরা আশা করি যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রভাব ব্যবহার করে ইসরায়েলকে থামাবে।’
কিন্তু এ আশা কতটা বাস্তবসম্মত—তা নিয়েই প্রশ্ন। গত আগস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঠাট্টা করে বলেছিলেন, ‘গাজায় কী হবে, তা ইসরায়েলের সিদ্ধান্ত।’
ফলে মঙ্গলবার ভোরে যখন ইসরায়েল গাজা সিটিতে স্থল অভিযান শুরু করলো, দোহা সম্মেলনের দীর্ঘ বিবৃতি সেটিকে একটুও থামাতে পারেনি।
এমএস/