দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

হামাস বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) জানিয়েছে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গাজা সিটিতে স্থল অভিযান চালিয়ে জিম্মিদের ফেরানোর শেষ আশা নষ্ট করেছেন। সংগঠনটির সামরিক শাখা আল-কাসাম ব্রিগেড দাবি করেছে, এ অভিযানে অংশ নিয়ে নেতানিয়াহু আসলে জিম্মিদের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন।
হামাস হিব্রু ভাষায় ইসরায়েলি নেতৃত্বের উদ্দেশে বার্তায় বলে, ‘আপনাদের বন্দিরা গাজার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে আছে। নেতানিয়াহু যখন তাদের হত্যা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তখন তাদের জীবন নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন নই। এ অভিযানের মানে হলো, কোনো বন্দিকে আর ফেরত পাবেন না—না জীবিত, না মৃত।’
হামাস আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছে, ‘গাজা হবে ইসরায়েলি সেনাদের কবরস্থান।’
অভিযান শুরুর পর ইসরায়েলের ভেতরে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে জনরোষ আরও বেড়েছে। তেল আবিবে নিয়মিত বিক্ষোভে যুদ্ধবিরতির দাবি তীব্র হয়েছে, যেখানে জিম্মিদের পরিবারও অংশ নিচ্ছে।
অনেক পরিবার আশঙ্কা করছে, শহর দখলের পরিকল্পনা মানেই তাদের প্রিয়জনের মৃত্যু। বর্তমানে গাজায় ৪৮ জন ইসরায়েলি জিম্মি রয়েছেন, যার মধ্যে অন্তত ২০ জন জীবিত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এক ভিডিওতে দেখা গেছে, জিম্মি মাতান জানগাউকারের মা নেতানিয়াহুর বাসার সামনে কান্না করে বলছেন, ‘আপনি আমাকে বলেছিলেন সবাইকে ফিরিয়ে আনবেন, অথচ মিথ্যা বলেছেন।’
এদিকে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডে আন্তর্জাতিক সমালোচনা বেড়েই চলেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন—যা ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার, তারা নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব দিয়েছে। জাতিসংঘের এক কমিশন রিপোর্টে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে, যা ইসরায়েল অস্বীকার করেছে।
ইসরায়েলি বাহিনী স্থল অভিযানের আগে থেকেই গাজা সিটিতে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে। প্রায় ১০ লাখ মানুষ ওই শহর ও আশপাশে বাস করে। ইসরায়েল তাদের দক্ষিণে সরতে বললেও, গাজায় নিরাপদ জায়গার অভাবে হাজারো মানুষ পায়ে হেঁটে, গাড়িতে বা সাইকেলে পালিয়ে যাচ্ছে।
ইসরায়েলি সেনারা বলছে, বর্তমানে শহরে ৪ লাখ ৫০ হাজার মানুষ অবশিষ্ট আছে। তবে এ সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
জাতিসংঘ সতর্ক করেছে, এই অভিযান গাজায় ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় আরও বাড়াবে। কিছু এলাকা আনুষ্ঠানিকভাবে দুর্ভিক্ষপীড়িত ঘোষণা করা হয়েছে।
প্যালেস্টাইনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় অপুষ্টিতে চারজন—এর মধ্যে একজন শিশু—মারা গেছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দুর্ভিক্ষে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৩৫-এ।
অন্যদিকে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত গাজায় নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৫ হাজারের বেশি।
সূত্র: সিএনএন
এমএস/