দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

১৯৯৮ সালে পাকিস্তানের প্রথম পারমাণবিক পরীক্ষার পর দেশটির ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা নেমে এলে পাশে দাঁড়ায় সৌদি আরব। সে সময় রিয়াদ পাকিস্তানকে ৩.৪ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক সহায়তা দিয়েছিল, যা ইসলামাবাদকে দ্বিতীয় পরীক্ষা চালাতে সহায়তা করে। সেই ঘটনা থেকেই পাকিস্তানকে অনেকেই সৌদির 'ডি-ফ্যাক্টো পারমাণবিক ঢাল' হিসেবে দেখতে শুরু করেন।
এবার নতুন করে আলোচনায় এসেছে বিষয়টি। বুধবার সৌদি আরব ও পাকিস্তান একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছে। এতে সামরিক সহযোগিতা, প্রযুক্তি হস্তান্তর, প্রতিরক্ষা শিল্পে যৌথ উৎপাদন, প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সৌদি কর্মকর্তারা এটিকে 'সমন্বিত প্রতিরক্ষা চুক্তি' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
চুক্তির সময়কালও নজরকাড়া। এটি হয়েছে এক সপ্তাহের মাথায়, যখন প্রতিবেশী কাতারে ইসরায়েল হামলা চালায়। বিশ্লেষকেরা বলছেন, দীর্ঘদিনের মার্কিন নির্ভরতার পর সৌদি আরব এখন নতুন বিকল্প খুঁজছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম মেয়াদে উপসাগরীয় আরব দেশগুলো ভেবেছিল, তিনি তাদের নিরাপত্তা নিয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেবেন। ইরান চুক্তি থেকে সরে আসা ও ইরানি জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার সিদ্ধান্ত সেই আশা জাগিয়েছিল। কিন্তু ২০১৯ সালে ইরানের হামলায় সৌদি তেলের অর্ধেক উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেলে ওয়াশিংটনের প্রতিক্রিয়া ছিল অনেকটাই নরম, যা উপসাগরীয় দেশগুলোকে হতাশ করে।
বাইডেন প্রশাসনের কাছ থেকেও আনুষ্ঠানিক নিরাপত্তা নিশ্চয়তা না পেয়ে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ২০২৩ সালে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেন যে, রিয়াদ চাইলে অস্ত্রের উৎস আমেরিকা থেকে অন্য কোথাও সরিয়ে নিতে পারে।
ট্রাম্প দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় ফেরার পর সৌদি আবার আশাবাদী হয়েছিল। তবে কাঙ্ক্ষিত প্রতিরক্ষা চুক্তি এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। এর মধ্যে কাতার—যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ঘাঁটি আল উদেইদ এয়ার বেস অবস্থিত—এ বছর প্রথমে ইরানি হামলা এবং সম্প্রতি ইসরায়েলি হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। এতে প্রমাণিত হয়েছে, ওয়াশিংটনের সামরিক উপস্থিতি আর আগের মতো নির্ভরযোগ্য নয়।
সূত্র: সিএনএন
এমএস/