দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইসরায়েলের হামাস নেতাদের লক্ষ্য করে দোহায় হামলার কয়েকদিন পর কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল-থানির সঙ্গে ডিনার করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে এই ডিনার অনুষ্ঠিত হয়।
গত মঙ্গলবার দোহায় হামাসের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে হত্যার চেষ্টা করে ইসরাইল। এই হামলা গাজায় যুদ্ধবিরতি ও প্রায় দুই বছর ধরে চলা সংঘাত শেষ করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করার ঝুঁকি তৈরি করে। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন জায়গায় এই হামলার নিন্দা জানানো হয়।
ট্রাম্প ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনালাপে হামলার বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং কাতারকে আশ্বস্ত করেন, এ ধরনের ঘটনা আর ঘটবে না। ডিনারে ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফও উপস্থিত ছিলেন।
কাতারের ডেপুটি চিফ অব মিশন হামাহ আল-মুফতাহ এক্সে লিখেছেন, ‘প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দারুণ ডিনার হলো, মাত্র শেষ করলাম।’ হোয়াইট হাউস ডিনারের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও বিস্তারিত জানায়নি।
এর আগে আল-থানি হোয়াইট হাউসে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে এক ঘণ্টার বৈঠক করেন। বৈঠকে দোহায় ইসরাইলি হামলার প্রেক্ষাপটে কাতারের মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।
ট্রাম্প বলেন, ইসরায়েলের হামলা ছিল একতরফা পদক্ষেপ, যা যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইল—কোনো পক্ষের স্বার্থেই কাজে আসেনি।
ওয়াশিংটনের কাছে কাতার অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র। গাজায় যুদ্ধবিরতি, ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তি এবং যুদ্ধ-পরবর্তী পরিকল্পনায় দীর্ঘদিন ধরেই কাতার মধ্যস্থতা করে আসছে।
হামলার পর আল-থানি ইসরায়েলকে শান্তির সম্ভাবনা নষ্ট করার চেষ্টা করার অভিযোগ আনেন। তবে তিনি বলেন, এ ঘটনায় কাতার তাদের মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা থেকে সরে যাবে না।
২০২৩ সালের অক্টোবরে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত গাজায় ৬৪ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। প্রায় পুরো গাজা জনসংখ্যা বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং তীব্র খাদ্যসংকট তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা এই হামলাকে গণহত্যা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তবে ইসরায়েল তা অস্বীকার করে বলছে, গাজায় তাদের অভিযান শুরু হয় হামাসের হামলার পর। ওই ঘটনায় ১,২০০ মানুষ নিহত এবং ২৫০ জনের বেশি অপহৃত হয়। গাজার পাশাপাশি ইসরাইল লেবানন, সিরিয়া, ইরান ও ইয়েমেনেও হামলা চালিয়েছে।
এমএস/