দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যুক্তরাজ্য নরওয়ের নৌবাহিনীর জন্য অন্তত পাঁচটি নতুন যুদ্ধজাহাজ সরবরাহে ১০ বিলিয়ন পাউন্ডের চুক্তি করেছে। ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এটি এখন পর্যন্ত তাদের সবচেয়ে বড় যুদ্ধজাহাজ রপ্তানি চুক্তি। অন্যদিকে, নরওয়ে বলছে, এটি তাদের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ।
বিবিসি জানিয়েছে, এই চুক্তির আওতায় টাইপ-২৬ ফ্রিগেট সরবরাহ করা হবে, যা সাবমেরিন শনাক্ত ও মোকাবেলায় বিশেষভাবে তৈরি। জাহাজগুলো নির্মাণ হবে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে বিএই সিস্টেমসের শিপইয়ার্ডে। এতে শুধু ওই কারখানাতেই দুই হাজারের বেশি কর্মসংস্থান হবে, আর পুরো যুক্তরাজ্যে প্রভাব পড়বে প্রায় চার হাজার মানুষের চাকরিতে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টার্মার বলেছেন, এই চুক্তি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করবে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী লুক পোলার্ড একে 'ব্রিটিশ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় যুদ্ধজাহাজ চুক্তি' হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি ব্রিটিশ কর্মী ও প্রতিরক্ষা শিল্পের প্রতি আস্থা প্রকাশ করছে।
চুক্তি কার্যকর হলে যুক্তরাজ্য ও নরওয়ের মোট ১৩টি অ্যান্টি-সাবমেরিন ফ্রিগেট যৌথভাবে উত্তর ইউরোপে ন্যাটোর হয়ে মোতায়েন থাকবে। এর ফলে উত্তর আটলান্টিকে রাশিয়ার সাবমেরিন মোকাবেলায় ন্যাটোর সক্ষমতা বাড়বে।
তবে নরওয়ের কিছু মহল থেকে সমালোচনাও উঠেছে। নরওয়ের নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন টর ইভার স্ট্রোমেন স্থানীয় গণমাধ্যমে বলেছেন, ফরাসি ও জার্মান ফ্রিগেট ব্রিটিশগুলোর চেয়ে বেশি উন্নত। তার দাবি, ব্রিটিশ নৌযানগুলো মূলত একক ভূমিকার জন্য বানানো এবং তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সীমিত।
এদিকে, নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গার স্টোরে এই চুক্তিকে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার 'ঐতিহাসিক অগ্রগতি' বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তারা ভেবেছে— কে সবচেয়ে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার এবং কে সেরা যুদ্ধজাহাজ সরবরাহ করতে পারবে। 'উভয় প্রশ্নের উত্তরই যুক্তরাজ্য।'
টাইপ-২৬ ফ্রিগেটগুলো নরওয়ের জন্য তৈরি হলেও প্রযুক্তিগতভাবে সেগুলো ব্রিটিশ নৌবাহিনীর জাহাজগুলোর মতোই হবে। প্রথম জাহাজ সরবরাহ শুরু হবে ২০৩০ সালে। এর আগে ব্রিটিশ রয়্যাল নেভির জন্য আটটি টাইপ-২৬ জাহাজ নির্মাণের কাজ চলছে। এর মধ্যে এইচএমএস গ্লাসগো ও এইচএমএস কার্ডিফ নির্মাণ শেষ হয়েছে এবং ২০২৮ সালে সেবায় যুক্ত হবে।
যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি বলেছেন, এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের নৌবাহিনী একসঙ্গে প্রশিক্ষণ, টহল ও অভিযানে অংশ নেবে। এতে ন্যাটোর উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলে শক্তি আরও বাড়বে এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষা পাবে।
এমএস/