দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ডস বাহিনী (আইআরজিসি) আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে। অভিযোগ করা হয়েছে, তারা ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মসাদকে সংবেদনশীল স্থাপনার অবস্থান ও শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের তথ্য সরবরাহের চেষ্টা করছিলেন।
আইআরজিসির বরাত দিয়ে বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, গত জুনে ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এতে শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ও বেসামরিক নাগরিক নিহত হন—যা ১৯৮০-এর দশকে ইরান-ইরাক যুদ্ধের পর ইসলামি প্রজাতন্ত্রের জন্য সবচেয়ে বড় আঘাত হিসেবে ধরা হচ্ছে। সেই সময় এই তথ্য পাচার হয়েছিল বলে অভিযোগ।
ইসরায়েলের হামলার পর ইরানও ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটি, অবকাঠামো ও শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এরপর ২২ জুন থেকে যুক্তরাষ্ট্রও যুদ্ধে যুক্ত হয়ে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা বর্ষণ করে।
আইআরজিসির দাবি, অভিযুক্তরা অনলাইনের মাধ্যমে মোসাদের কাছ থেকে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। তাদের গ্রেপ্তার করা হয় উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ইরানে। সেখান থেকে রকেট লঞ্চার তৈরির সরঞ্জাম, বোমা, বিস্ফোরক ও ফাঁদ পেতে রাখার উপকরণ জব্দ করা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, গত জুনের ১২ দিনের যুদ্ধ চলাকালে দেশজুড়ে প্রায় ২১ হাজার মানুষকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তবে তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জানানো হয়নি। যুদ্ধকালীন সময় জুড়ে নিরাপত্তা বাহিনী ব্যাপক অভিযান চালায় এবং রাস্তায় নজরদারি জোরদার করে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরান অন্তত আটজনকে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে। এর মধ্যে রয়েছেন পারমাণবিক বিজ্ঞানী রুজবেহ ভাদি, যিনি ইসরায়েলের কাছে গোপন তথ্য সরবরাহের দায়ে ৯ আগস্ট ফাঁসিতে ঝুলেন। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ, ইরান প্রায়ই গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ ও দ্রুত মৃত্যুদণ্ডকে রাজনৈতিক দমন-পীড়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে।
এমএস/