দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইসরায়েলি হামলায় গাজার নাসের হাসপাতালে নিহত হয়েছেন রয়টার্সের অভিজ্ঞ সাংবাদিক হুসাম আল-মাসরি (৪৯)। সোমবার (২৫ আগস্ট) লাইভ ভিডিও সম্প্রচার চালানোর সময় তিনি হামলার শিকার হন।
বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সহকর্মীদের মতে, হুসাম সবসময় ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করতেন। ভয়াবহ পরিস্থিতিতেও তিনি আশার আলো দেখতেন। রয়টার্সের প্রধান সম্পাদক আলেসান্দ্রা গালোনি তাকে স্মরণ করে বলেন, ‘গাজার গল্প বিশ্বকে জানাতে তিনি ছিলেন নিবেদিতপ্রাণ, সাহসী ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’
হামলার সময় হুসামের দেহ তার ক্যামেরার পাশেই হাসপাতালে একটি সিঁড়ির পাশে পাওয়া যায়। এরপরের দ্বিতীয় বিস্ফোরণে অন্তত ১৯ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে কয়েকজন সাংবাদিকও ছিলেন। আহত হন রয়টার্সের ফটোগ্রাফার হাতেম খালেদ। তবে ইসরায়েলি সেনারা জানায়, সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়নি। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ঘটনাটিকে দুঃখজনক বলে অভিহিত করেছেন।
হুসামের স্ত্রী সামাহার ক্যানসারে আক্রান্ত। মৃত্যুর আগে তিনি স্ত্রীকে চিকিৎসার জন্য গাজা থেকে বের করে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তাদের চার সন্তান রয়েছে—শাহদ (২৩), মোহাম্মদ (২২), শাথা (১৮) ও আহমদ (১৫)।
১৯৭৪ সালে খান ইউনিসে জন্ম নেওয়া হুসাম ১৯৯৮ সালে সাংবাদিকতা শুরু করেন। রয়টার্সে যোগ দেন ২০২৪ সালের মে মাসে। নাসের হাসপাতাল থেকে প্রতিদিন সরাসরি সম্প্রচারসহ গাজার মানবিক বিপর্যয়ের অসংখ্য প্রতিবেদন বিশ্বে তুলে ধরেন তিনি। সর্বশেষ প্রতিবেদনে তিনি দেখিয়েছিলেন ইসরায়েলি হামলায় নিহত শিশু ও সাধারণ মানুষের লাশ নিয়ে স্বজনদের আহাজারি।
হুসামের ভাই এজেলদিন বলেন, ‘ক্যামেরা সত্য তুলে ধরে—যা-ই ঘটুক না কেন। হুসাম সেই সত্যই বিশ্বকে দেখাতেন।’
সাংবাদিক সুরক্ষা কমিটি জানিয়েছে, গাজায় এ পর্যন্ত ১৮৯ জন ফিলিস্তিনি সাংবাদিককে হত্যা করেছে ইসরায়েল। সংগঠনটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে এ হত্যাকাণ্ডের দায়ভার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
এমএস/কে