দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]
জার্মান সংবাদপত্র ফ্রাঙ্কফুর্টার অ্যালজেমেইন জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে চারবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ফোন করেছিলেন। তবে মোদি ফোনকল ধরেননি। সংবাদপত্রের মতে, এ ঘটনা ভারতের পক্ষ থেকে ক্ষোভ এবং সাবধানতার প্রমাণ।
ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, ট্রাম্প এমন সময়ে ফোন করেছেন, যখন তার প্রশাসন ভারতীয় পণ্যে ৫০% শুল্ক আরোপ করেছে। ব্রাজিল ছাড়া অন্য কোনো দেশের ওপর এত পরিমাণ শুল্ক আরোপ করা হয়নি। জার্মান সংবাদপত্রে আরও বলা হয়েছে, মোদি আগের ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা বজায় রেখেও ভারতীয় অর্থনৈতিক স্বার্থে আপস করেননি।
ট্রাম্প মোদি-কে ফোনে রাজি করানোর চেষ্টা বহুবার করেছেন, কিন্তু মোদি প্রতিবার এটি প্রত্যাখ্যান করেছেন। এটি তার ক্ষোভের গভীরতা এবং সতর্কতার দিক নির্দেশ করে।
ট্রাম্প ভিয়েতনামের সঙ্গে দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় গড়ে ওঠা বাণিজ্য চুক্তি এক ফোনকলের মাধ্যমে পুনর্বিবেচনা করেছেন এবং পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় তা ঘোষণা দিয়েছিলেন। মোদি সেই একই ফাঁদে পড়তে চাননি।
সংবাদপত্রে আরও বলা হয়েছে, ট্রাম্পের ভারতীয় প্রকল্প যেমন দিল্লীর কাছের বিলাসবহুল টাওয়ার নির্মাণ নিয়ে বিতর্ক হয়েছে, তেমনি মে মাসে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে ভারত-পাকিস্তান সামরিক সংঘর্ষে তিনি এককভাবে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ভারতের পক্ষ থেকে এই দাবি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
মোদি এবং ট্রাম্পের সর্বশেষ ফোনালাপ হয় জুনের ১৭ তারিখে। তখন ট্রাম্প পাকিস্তানের অনুরোধে ভারত-পাকিস্তান সামরিক সংঘর্ষের সাময়িক থামার বিষয়ে সমন্বয় করতে চেয়েছিলেন। মোদি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভারত কখনও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতা গ্রহণ করবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, মোদি-র এই পদক্ষেপ কৌশলগত। তা শুধু ট্রাম্পের শুল্কের প্রতিক্রিয়া নয়। ভারতের দৃষ্টিকোণ থেকে, যুক্তরাষ্ট্রের পর চীনের সঙ্গে ভারসাম্য রক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।
এফএইচ/এমএস