দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যুক্তরাষ্ট্রেই জন্ম। আর ৩০ বছর ধরে চিকিৎসক হিসেবে মানুষকে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু ভার্জিনিয়ার ৬২ বছর বয়সী ডাক্তারকে কিনা নাগরিকত্ব হারাতে হলো। কেন, কী তার অপরাধ? তেমন কিছুই না, তার জন্মের সময় ইরানের কূটনীতিক ছিলেন ওই চিকিৎসকের বাবা। আর এজন্যই নাগরিকত্ব হারাতে হলো তাকে।
ওয়াশিংটন পোস্টের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানিয়েছে, সিয়াভাশ সোবহানি হঠাৎ করে আবিষ্কার করেন তিনি আর যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে চিঠি দিয়ে তাকে জানানো হয়, নবজাতক অবস্থায় সোবহানিকে ভুলে মার্কিন নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছিল। ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, কূটনীতিক বাবা-মায়ের সন্তান হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে কেউ মার্কিন নাগরিকত্ব পাবেন না।
নাগরিকত্ব হারিয়ে সোবহানি বলেন, আমি এতে অবাক হয়ে গিয়েছি। আমি একজন চিকিৎসক। আমার পুরো জীবন আমি এখানে কাটিয়েছি। আমি কর দিয়েছি। আমি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট দিয়েছি। উত্তরাঞ্চলীয় ভার্জিনিয়ায় আমি আমার কমিউনিটির সেবা করেছি। করোনাভাইরাসের সময় আমি আমার পরিবারকে, নিজেকে ঝুঁকির মুখে ফেলে কাজ করেছি। তাই যখন আপনি ৬১ বছর পর বলেন, আপনার নাগরিকত্ব পাওয়াটা ভুল ছিল, তখন তা সত্যিই অবাক করে দেওয়ার মতো।
গত ফেব্রুয়ারিতে নতুন পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেন সোবহানি। এর আগে কোনো ধরনের সমস্যা ছাড়াই বেশ কয়েকবার পাসপোর্ট নবায়ন করেছেন। তাই কোনো সমস্যা হবে না বলে ধরে নিয়েছিলেন। কিন্তু এবার নতুন পাসপোর্ট পাননি তিনি। এর পরিবর্তে একটি চিঠি পান সোবহানি। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়, সোবহানির জন্মের সময় তার বাবা ইরান দূতাবাসের একজন কূটনীতিক ছিলেন, তাই তাকে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে না। ওই চিঠিতে স্থায়ী নিবাসী হিসেবে আবেদনে জন্য একটি ওয়েবসাইটের ঠিকানাও দেওয়া হয়।
এখন সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী স্থায়ী নিবাসী হওয়ার জন্য আবেদন করেছেন সোবহানি। এজন্য তাকে ৪০ হাজার ডলারের বেশি খরচ করতে হয়েছে। কিন্তু তার আবেদনে কোনো ফল আসবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে সোবহানির।
এইউ